বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

আসছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকার বৃহত্তম বাজেট

নিউজ ডেস্ক :: করোনার প্রভাবে আর্থসামাজিক খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে রাজস্ব আয়ে ধীরগতির মধ্যেও গতবারের চেয়ে আরও বড় বাজেটের চ্যালেঞ্জ নিতে যাচ্ছে সরকার। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

গতকাল রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সম্পদ কমিটি ও বাজেট সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেটের এমন রূপরেখা সাজানো হয়েছে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে সংযুক্ত ছিলেন এমন একজন সচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, মোটা দাগে আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য থাকবে করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলা করা। এজন্য অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করার নানা উদ্যোগ থাকবে। বিশেষ গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাজেটের অন্যতম উদ্দেশ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এই রূপরেখা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সাধারণত জুন মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশ করা হয়। সে অনুযায়ী আগামী ৩ জুন বাজেট উপস্থাপন করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। একেক সময় একে ধরনের পরিস্থিতি সামনে আসছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজেট বাস্তবসম্মত করা উচিত। বর্তমান সংকটময় সময়ে বাজেটে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা ও মানুষের আয় বাড়ানোর মতো উদ্যোগ থাকা দরকার।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে বাজেটের সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় লাখ দুই হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে তিন লাখ ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে। এতে বাজেটের ঘাটতি দাঁড়াবে দুই লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি। দেশের ইতিহাসে এত বড় ঘাটতি নিয়ে বাজেট কখনও করেনি সরকার। এই ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে মেটানো হবে। আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে দুই লাখ ২৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ব্যয়ের বড় অংশ থাকবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়নে। আগামী অর্থবছরে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ম্ফীতি হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মার্চ থেকেই অর্থনীতি নানাভাবে সমস্যায় পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার ছোট হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমেছে। নিম্ন আয় ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এতে বড় শিল্প ও সেবা খাতে কিছুটা গতি পেলেও সাধারণ মানুষের কষ্ট কমেনি। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগেই নতুন করে করোনার বিস্তার বেড়েছে। লকডাউন ব্যবস্থায় যেতে হয়েছে সরকারকে। এতে জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকার আশা করছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। মূল বাজেটে যা ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। একইভাবে কমানো হয়েছে বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রাও। অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, চলতি অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা যাবে। মূল বাজেটে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। রাজস্ব আয়েও ব্যাপক সংশোধন এনেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যা সংশোধন করে তিন লাখ ৫১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা।

এদিকে চাল, তেল, সবজি এবং খাদ্যবহির্ভূত অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লেও অর্থবছর শেষে মূল্যস্ম্ফীতি মূল বাজেটের মতোই ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে মনে করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি