শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

কুবির স্যানিটেশন ব্যবস্থার বেহাল দশা

কুবি প্রতিনিধি :: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকা সত্ত্বেও যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনসমূহ অপরিচ্ছন্ন বাথরুম -বেসিন, নালা-নর্দমায় পানি জমে থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের। সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়তে হচ্ছে নারী শিক্ষার্থীদের। তবে সংস্থাপন দফতর বলছে লোকবলের অভাবে পুরো ক্যাম্পাস নজরদারি করতে পারছেন না তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আঙ্গিনায়, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের পেছনের অংশে, বিজ্ঞান অনুষদের চারপাশ, প্রশাসনিক ভবনের পিছনের অংশে যত্রতত্রে ছড়িয়ে আছে ময়লা আবর্জনা। এছাড়া ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নালাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের নেই ব্যবস্থা। ফলে জমে থাকা ময়লা পানি থেকে সৃষ্টি হচ্ছে নানারকম জীবাণু।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের প্রতি তলার দুইটি ব্লকে ছয়টি করে টয়লেট-বেসিন থাকলেও অধিকাংশ বেসিনই ব্যবহারের একবারে অনুপযুক্ত এবং অধিকাংশ বাথরুমে নেই পানির কল, দরজা বন্ধ করার ব্যবস্থা। এমনকি নেই দরজাও। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের দুইটি ব্লকে ছয়টি করে বাথরুম-বেসিন থাকলেও অধিকাংশ বাথরুম কর্মকর্তারা তালা লাগিয়ে রাখেন। ফলে প্রশাসনিক ভবনের বাথরুম ব্যবহার করতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের ৫ম তলায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে নেই কোন পয়ঃনিষ্কান ব্যবস্থা। এতে লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায়। এদিকে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট বাথরুম-বেসিন না থাকা এবং অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতার কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সবচেয়ে বেশী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত বাথরুম ও বেসিন পরিষ্কার না করা, পানির নষ্ট কলগুলো সময়মত মেরামত না করার কারণে এই নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পরীক্ষা দিতে আসা বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী জানান, অনেকদিন ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও সংস্কার করা হয়নি একাডেমিক ভবনের বাথরুম -বেসিনগুলো। এছাড়া প্রতি ফ্লোরে মেয়েদের জন্য নেই আলাদা ওয়াশরুম। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে সম্মুখীন হতে হয় তাদের। পাবলিক টয়লেটের চেয়ে বেশী বাজে অবস্থা এখানকার ওয়াশরুমগুলোর। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আর্বজনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেখান থেকে সৃষ্টি হচ্ছে জীবাণু। এমতাবস্থায় অতিদ্রুত বাথরুম-বেসিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার দাবি জানান তারা।

এদিকে ডিন অফিসের দোহাই দিয়ে এস্টেট অফিসের পরিচালক মো: মিজানুর রহমান বলেন, “পুরো ক্যাম্পাস আমাদের পক্ষে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। একাডেমিক ভবনগুলোর কাজ পরিচালনা করার জন্য আমাদের জনবল থাকলেও তাদের পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন ডিন অফিস।”

এবিষয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, আমার জানামতে এস্টেট অফিস পরীক্ষার আগে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালিয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরকে অবগত করলে তিনি অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি