শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

সাঁওতাল বিদ্রোহ ও আধুনিকতা – ইমাম গাজ্জালী

সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালে সালের ৩০ জুন। ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে তা শেষ হয়। সেটা ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহ। ঠিক তার পরের বছরই শুরু হয় মহান সিপাহী বিদ্রোহ। সিপাহী বিদ্রোহকে কার্ল মার্কস বলেছিলেন প্রথম ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধ। তখন ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামল। সাঁওতাল বিদ্রোহের ঘটনায় কোম্পানির শাসকদের মসনদ কেঁপে উঠেছিল। এই দুই বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে ব্রিটিশ সরকার।

আজ সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস। একে ‘সান্তাল হুল’ দিবসও বলা হয়। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব নামের চারজন সাঁওতাল সহদোর। বিদ্রোহের সূচনা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারের ভাগলপুর জেলায়।

১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশের প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন প্রণয়নের পর বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। এই আইনে জমিদারি প্রথা চালু হয়। কৃষকের হাত থেকে জমি কেড়ে নেওয়া হয়। জমি কেন্দ্রীভূত হয় জমিদারদের হাতে।

সাঁওতালরা ভূমিজ সন্তান। এদের পেশা কৃষিকাজ ও বনজঙ্গলে শিকার করা। জঙ্গল সাফ করে কৃষি জমি তৈরি করার প্রধান কৃতিত্ব তাদের। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে অন্যান্য কৃষকদের মত সাঁওতালদের জীবন ও জীবিকার ওপরও হুমকি তৈরি করে। তারা উচ্ছেদ হতে থাকে ভূমি ও জীবিকা থেকে। এর ওপর জমিদার, মহাজন ও ইংরেজ কর্মচারীদের অন্যায় অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে তাদের ওপর ধার্য্য করা করের মাত্রা। এই অত্যাচার ও উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ফুসে উঠতেই গড়ে তোলে সশস্ত্র প্রতিরোধ।

বিদ্রোহে সাওতাঁলদের ছিল তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র। আর বিদ্রোহ দমনে ইংরেজ বাহিনীর হাতে ছিলো বন্দুক ও কামান। তারা ঘোড়া ও হাতি যুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। যুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা বীরের মৃত্যু বরণ করেছিলেন। সাঁওতাল নারীদের অংশগ্রহণ ছিলো অত্যন্ত স্বতস্ফূর্তভাবে। বিদ্রোহের পর সিদু-কানুর বোন ফুলমনির লাশ উদ্ধার করা হয়। ঝালমনি নামে তাদের আরেক বোন ছিলো। বিদ্রোহে তারা অংশ নিয়েছিলেন। বিদ্রোহে অসম্ভব বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ছিল। পাশাপাশি ছিল বিশ্বাসঘাতকতা।

সংঘর্ষে সিধু, কানু আর ভৈরব নিহত হন। বিদ্রোহ দমনের নামে ইংরেজ সেনাদল সাঁওতাল গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেয়। বীরভূমের পালারপুরে প্রায় দেড় হাজার বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহী নেতাদের ধরিয়ে দিতে পারলে প্রচুর অর্থ পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়।
এই যুদ্ধ পরিচালনা করতে গিয়ে মেজর জারভিস নামে এক ইংরাজ সেনাপতি বলেছিলেন, ‘একে যুদ্ধ বলে না, এ ছিল গণহত্যা। তারা আত্মসমর্পণ করতে জানত না। যতক্ষণ তাদের নাগরা বাজবে, তারা সকলেই দাঁড়িয়ে পড়বে, তীর ছুড়তে থাকবে, গুলি খেয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাদের তীরে সরকারি সৈন্যরাও মারা যেত। এই যুদ্ধে এমন সিপাই ছিল না যে নিজের কাছে লজ্জ্বিত বোধ না করত। বন্দীরা প্রায়ই ছিল আহত লোক। এমন সত্যবাদী আর সাহসী মানুষের দল আমি আর দেখিনি।’

সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব, বীরসিং ছাড়াও শত শত নেতাকে হত্যা করায় আন্দোলন নেতৃত্বশুন্য হয়ে যায়। ১৮৫৭-৫৮ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, ১৮৬০-৬১ সালে নীল বিদ্রোহ, পাবনা-বগুড়ার রায়তের আন্দোলনের শিখা ছড়িয়ে পড়েছে সারা ভারতবর্ষে।

শুরু হওয়া বৈশ্বিক দুর্যোগ কোভিড-১৯ এর বাস্তবতায় সবকিছু নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। পূর্ণনির্মান করতে হচ্ছে চিন্তার জগৎ। ইতিহাসের সকল ঘটনা থেকেই শিক্ষা নেওয়া চলে, তবে বিশেষ বাস্তবতায়, বিশেষ ঘটনা থেকে বিশেষ শিক্ষা নিতে হয়। যা না নিলে সেই বিশেষ বাস্তবতাকে মোকাবেলা করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়। এমনি একটি ঘটনা সাঁওতাল বিদ্রোহ। আর এখন চলছে কোভিড দুর্যোগের বাস্তবতা।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার ক্ষমতা নেওয়ার পর সংঘটিত অসংখ্য বিদ্রোহের কোনো কোনোটির পেছনে ছিল ক্ষমতা হারানোর বেদনা। সেই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতি। কিছু বিদ্রোহ হয়েছিল ভূমি ও জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ক্ষোভ থেকে। আরো পরে, শুরু হয় রাজনৈতিক আন্দোলন। তারা চেয়েছে ক্ষমতা। ততদিনে ইংরেজদের লোকেরাই গঠন করে দেয় জাতীয় কংগ্রেস। এছাড়া আপোষহীন সশস্ত্র ধারা তো ছিল। শেষোক্ত আন্দোলনগুলো মূলত আধুনিক চিন্তা চেতনা দ্বারা প্রচলিত। যে আধুনিকতা এসেছিল ওই ইংরাজ শাসকদের হাত ধরেই। তাকে আধুনিকতা না বলে বলা চলে উপনিবেশিক আধুনিকতা। এদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যেতে হয়েছিল ব্রিটিশ শাসকদের। আমরা এখন সেই উপনিবেশিক আধুনিক যুগে বসবাস করছি। দেখছি উপনিবেশিক কাঠামোবদ্ধ রাষ্ট্রের শাসন। ব্রিটিশ অনুগতদের ভাষ্য হল, ইংরাজরা আমাদের সভ্যতা দিয়েছে। কিন্তু গবেষকরা জানাচ্ছেন, ব্রিটেন ১৭৩ বছরে উপমহাদেশ থেকে ৯ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড (৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার) লুটপাট নিয়ে গেছে। বাংলায় দুই দুটো দুর্ভিক্ষ উপহার তাদেও দান। যেখানে বাংলার সোয়া কোটি লোকের প্রাণহাণি ঘটে। এবার দেখা যাক, তাদের শিখিয়ে দেওয়া শাসন প্রকৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, টর্নেডো, হ্যারিকেন, সুনামী, ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুকি বাড়ছে। পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন, জীবজগৎ হুমকির মধ্যে। প্রাণের অস্তিত্বের জন্য ক্রমেই অনুপযোগি হয়ে উঠছে পৃথিবী। এরই ধারাবাহিকতায় এসেছে বৈশ্বিক দুর্যোগ নোবেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। নাস্তা নাবুদ করে দিচ্ছে মানুষকে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নদীপথ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার, ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়ায় বর্ষা মৌসুমে মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটারে এবং শুষ্ক মৌসুমে মাত্র ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটারে। বাংলাদেশের ১১৮টি নদী আক্ষরিক অর্থেই মৃত। ৫০০টি নদী মরে যায় যায়। ৪০৫টি নদী বেচে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। নদীর অভিধান থেকে মুছে গেছে ’সর্বনাশা’ ’প্রমত্তা’, খরশ্রোতা, ’রাক্ষুসে’ প্রভৃতি শব্দগুলো। শিল্পবর্জ্যে আর নগর ধোয়া নর্দমার দুষিত কালো জলের দুর্গন্ধে নদীতে কোনো জলজ প্রাণি টিকতে পারে না। ৫২টি নদীর মুখের বাঁধ। বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে নদীর দু’পাড়ে সুউচ্চ ওয়াপদা বাধ আর স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌছানোর জন্য তৈরি করা ব্রীজ-এসবই নদী মারার আয়োজন। বাঁধে স্বাভাবিক বন্যার পথ রুদ্ধ হয়। তখন বন্য আসে অস্বাভাবিক ভয়বহতা নিয়ে। আর এটা নিয়েও চলে ত্রাণ বাণিজ্য। সেই সঙ্গে বিনষ্ট হয়, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার দুমূল্য অভিজ্ঞতা।

এখন আগের মত বৃষ্টি নেই। বাঘ বন্য শুকর সহ নানা বন্যপ্রাণির দেখা মিলত গ্রামের ঝোপঝাড়েই। এদের বেশিরভাগই এখন বিলুপ্তির তালিকায়। দেশিয় ২৬০টি প্রজাতি মাছের ৬২টি ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত। আরো বেশি প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

ঝোপঝাড় থাকছে না। আশ্রয়হীন হচ্ছে পোকা মাকড়। ভূগর্ভস্থ উৎসের পানির সেচ দিয়ে কৃষিকাজ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। নেমে যাচ্ছে পানির স্তর, দেশ এগুচ্ছে মরুকরণের দিকে। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুকি বাড়ছে, সেই সঙ্গে আরসেনিকের ঝুকি।

ওই ‘আধুনিক’ ও ‘সভ্য’ মানুষের মনোভাব এমন, তার প্রয়োজন কিংবা অর্থনীতির চাকা ঘুরবে, কেবল সেই সেই প্রজাতির প্রাণিকে সে টিকিয়ে রাখতে চায়। বাকিগুলো ধ্বংস করতে সে উদ্যত। পৃথিবীটা যেন মানুষের একার। বাণিজ্যিক স্বার্থের বাইরে সে কাউকে পৃথিবীতে রাখতে নারাজ। এজন্য প্রকৃতি থেকে আহরণযোগ্য সকল সম্পদ ধ্বংস করে কৃত্রিম উপায়ে চাষবাস করে অধিক ফলনে কলাকৈশল বের করছে। নদী মেরে পুকুরে চাষ করে মাছ। সাগরের জল দুষিত করে পুকুরে ইলিশ চাষের পদ্ধতি আবিস্কারে কারি কারি টাকা ঢালে। বন ধ্বংস করে ঘরের ছাদে সবুজায়ন করে।

এসব করতে গিয়ে প্রাণিজগতের খাদ্যচক্র ভেঙ্গে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে বন্যপ্রাণিদের খাবার সংকট। তারা ক্ষুধার জ্বালায় লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

পরিবেশবাদীদের দাবি, জীবজগৎ বাঁচাতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্প বিপ্লবের আগের সময়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেটা কি সম্ভব ? পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, এই মুহুর্ত থেকে যদি পৃথিবীর তাবৎ কার্বন নির্গমন বন্ধ করা যায়, তাহলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ওই কাঙ্খিত পর্যায়ে নিতে ৪০ বছর সময় লাগবে। জ্বালানী না পুড়িয়ে কথিত সভ্যতা বাঁচে না। ‘প্রযুক্তি’ ছাড়া এই সভ্যতা অচল। সভ্যতা মানেই হল, প্রকৃতির ওপর মানুষের খবরদারি। বর্তমানের মুনাফা ভিত্তিক সভ্যতা অতীতের যে কোনো সভ্যতার চেয়ে হাজারগুন শক্তিশালী। এজন্য প্রকৃতির ওপর তার খবরদারি করার ক্ষমতাও হাজারগুন বেশি। সেই শক্তি দিয়ে শুধু মানুষকেই নয়, প্রকৃতির ওপর চলছে খবরদারি। আর মানুষকে পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর করে, তাকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। সে যাতে প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াইতে অক্ষম হয়ে যায়। দরকার পরে প্রযুক্তির। তখনই মানুষ আর মানুষ থাকে না, হয়ে যায় তার পণ্যের কাষ্টমার।

ফয়সালা পয়লা করা দরকার, মানুষ প্রকৃতির প্রভু নাকি সে নিজেই প্রকৃতির অংশ।
আমাদের মতে, যারা কথিত সভ্যতার আলো দেখেনি, দামি বস্ত্রে শরীরের সৌন্দর্য ঢাকতে শেখেনি। জ্বালানি পুরিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করে না। যারা দায়ীদের কাছে সমাধান খোঁজে না। এমন মানুষের কাছেই প্রকৃতি নিরাপদ, তাদের জীবন হল সুখের আনন্দের ও স্বস্তি¡র। কথিত ‘সভ্য’ মানুষের কাছে প্রকৃতি নিরাপদ নয়।

আমাদের মতে, সভ্যতার নতুন সংজ্ঞা নির্ণয় করতে হবে। সত্যজিতের আগন্তুক সিনেমায় যার ইঙ্গিত আছে। সেখানে বলা হয়েছে, একটি পর্ণকুটিরও স্থাপত্যের স্বাক্ষর বহন করে। এস্কিমোদের ইগুলুতে দুই রকম বরফ ব্যবহার হয়, এক অস্বচ্ছ, যা দিয়ে বাড়ির ছাউনি তৈরি হয়। আর দ্বিতীয় স্বচ্ছ¡ যা দিয়ে বাড়ির চতুস্কোণ জানালা তৈরি হয়। এটা কি সায়েন্স নয়? টেকনোলজি নয়? অনেক গ্রামীণ কবিরাজের অন্তত: ৫’শ গাছগাছড়ার গুনাগুন নখদর্পনে। আলতিমার গুহাবাসীরা যে বাইসন এঁেকছিল, সেটা কি শিল্প নয়? সভ্যতা কি কেবল একটি আঙ্গুলের চাপে একটি বোতাম টিপে, একটি পরমাণু বোমা ফেলে গোটা নগর ধ্বংস করে দেওয়া? কিংবা সেই সিদ্ধান্ত যারা নিতে পারেন, তারাই কি সভ্য? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

গণহত্যা, বৈষম্য, যুদ্ধ, সংঘাত, হিংস্রতা আর অপ্রেম নিষ্ঠুরতার বিপরীতে সাম্য শান্তি নিরাপত্তা ও আনন্দ মানুষের প্রাপ্য। তাদের দরকার সবুজ গাছপালা, সুনির্মল হাওয়া, ঢেউ তোলা বহতা নদী আর জীবজগতের সঙ্গে সুগভীর মিতালী। প্রকৃতির অংশ হওয়ার মানে হল মহাজগতেও অংশ হওয়া। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে শেখা। প্রকৃতিকে বশ মানানো বাদ দিয়ে তাকে পোষ মানিয়ে চলতে শেখা। সাঁওতাল বিদ্রোহের এই দিনে সেই ভূমিজ সন্তানের কাছে আমরা কিছু শিখতে পারব?

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনীতিক কর্মী

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি