মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:২২ অপরাহ্ন

সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, জলাবদ্ধতায় ১০ হাজার একর জমি

বরগুনা প্রতিনিধি :: বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামে সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে রয়েছে হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের ১০ হাজার একর কৃষি জমি। বাঁধের কারণে পানি অপসারণ না হওয়ায় বৃষ্টির সময় বাড়ি-ঘর তলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক হাজার বাসিন্দা।

বরগুনা প্রতিনিধি :: মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকালে এর প্রতিকার চেয়ে আমতলী ইউএনও’র নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। আমতলী উপজেলা হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া ও গুরুদল গ্রামের মাঝ দিয়ে কাউনিয়া নামে একটি সরকারি খাল প্রবাহিত হয়ে জলেখার ৫ ব্যান্ডের স্লুইস গেটের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই দুই গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কাউনিয়া খালটিতে স্থানীয় বাসিন্দা নান্নু মোল্লা গত কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করে আসছে।

খালের গতি পথের ৫ জায়গায় বাঁধ এবং একটি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে মাছ চাষ করায় গত কয়েকদিনের অতি এবং ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ওই এলাকা এখন ৩-৪ ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দেখা দিয়েছে মারাত্মক আকারে জলাবদ্ধতা। বাঁধের কারণে পানি নামতে না পারায় গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানির কারণে মৌসুমে হাল চাষ করতে পারছে না ফলে প্রায় ১০ হাজার একর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

সরকারি কাউনিয়া খালের বাঁধ অপসারণ করার দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষে রুহুল আমিন প্যাদাসহ কয়েকজন কৃষক মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সকলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কৃষক রুহুল আমিন প্যাদা অভিযোগ করে বলেন, হলদিয়া গ্রামের নান্নু মোল্লা প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাউনিয়া খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় হলদিয়া এবং গুরুদল গ্রামের প্রায় ১০ হাজার একর জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বর্তমানে পানি অনেকের বাড়ি ঘরে ঢুকে পড়েছে। পানির কারণে চাষ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বপন আরটিভি নিউজকে বলেন, কাউনিয়া খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় এখন জলাবদ্ধতায় প্রায় ১০ হাজার একর জমি তলিয়ে রয়েছে। পানির কারণে কৃষকের হালচাষ বন্ধ রয়েছে। আমনের বীজ তলা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে পানি জমে থাকলে দুই গ্রামের প্রায় ১০ হাজার একর জমি অনাবাদী থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযুক্ত নান্নু মোল্লা বাঁধ দেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তবে কালভার্টের মুখে জাল দিয়ে মাছ চাষের কথা স্বীকার করেছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান কাউনিয়া খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে আরটিভি নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বাঁধ অপসারণ করে কৃষকদের জলাবদ্ধ মুক্ত করা হবে।

এসআর/

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি