শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

১৪১ দিন পর প্রাণ পেলো কুয়াকাটা সৈকত

কুয়াকাটা প্রতিনিধি :: শুক্রবার ছিলো পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়ার দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের দেখা না মিললেও দ্বিতীয় দিন ভ্রমণ পিপাসুদের পদভারে মুখরিত সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ১৪১ দিন পর সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পেলো কয়েক হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক।

কুয়াকাটার আশেপাশের ১৪টি স্পটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে আগত পর্যটকদের। পর্যটকদের এমন আগমনে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন সৈকত পাড়ের ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের আগমনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও, খুশি হতে পারেনি আবাসিক হোটেলের মালিকরা। আবাসিক হোটেলগুলোর প্রায় ৫০ শতাংশ রুম বুকিং এখনও বাকি রয়েছে বলে জানিয়েছে হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে চলতি বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে সারা দেশের ন্যায় কুয়াকাটা পর্যটক কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। এরপর টানা ১৪০ দিন বন্ধ থাকে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগষ্ট) থেকে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় সৈকত পাড়ে কোনো পর্যটকের দেখা মেলেনি।

এদিকে উত্তাল সমুদ্রে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পর্যটকদের গোসল না করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করতে দেখা গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতেও দেওয়া হচ্ছে নির্দেশনা।

ফরিদপুর থেকে সৈকতে ঘুরতে আসা মৌসুমি আক্তার বিলকিস আরটিভি নিউজকে বলেন, আগে থেকেই কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুয়াকাটা সৈকতে এসেছি। সমুদ্রের রূদ্র মূর্তি, উত্তাল ঢেউ দেখে ভালোই লাগছে।

লাবন্য মৌ বলেন, কুয়াকাটা একটি সুন্দর জায়গা। এখানে খুবই মজা পেয়েছি। আনন্দ উপভোগ করছি। সময় পেলে বার বার ছুটে আসবো এখানে।

সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঝন্টু বলেন, এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম। এখন কিছু পর্যটক এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে পর্যটক আসবে। বিক্রয় মোটামুটি ভাল। আশা করছি বিগত দিনের লোকশান কাটিয়ে উঠতে পারবো।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বদরুল বলেন, উত্তাল সমুদ্রে আগত পর্যটকরা গোসল করতে নামছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসল থেকে বিরত থাকতে এবং শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে। এজন্য মাইকিং করাসহ দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিষেধ করা হচ্ছে।

জেএইচ

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি