শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

নৃত্য ও অভিনয় দুই মাধ্যমে কাজ করেন মুন্না

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :: চাকুরীর পাশাপাশি দুই মাধ্যমে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন মুন্না। অফিস টাইম শেষ করে চলে যায় রিহার্সেলে, বয়স বাড়লেও সাংস্কৃতিক চর্চা করছেন নিয়মিত। মুন্নার বয়স যখন ১০ তখন থেকে স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য করতো। মুন্নার শৈশব কেটেছে আমাদের গ্রামে বাড়ি দক্ষিন চরমশুরায় সেখানে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে।

১৯৯০সালে দক্ষিন চরমুশুরা গ্রামে যাত্রা পালা হয়েছিল, যাত্রার পালার মাঝখানে নৃত্য করার জন্য নৃত্য শিল্পী মুন্নাকে কোলে করে বাসা থেকে নিয়ে মঞ্চে উঠিয়ে দেয় নৃত্য করার জন্য। সেটাই ছিল তাহার জীবনের প্রথম মঞ্চ, মুন্নার নৃত্য দেখে গ্রামবাসী মহাখুশি সবাই টাকা দিতে শুরু করলো, চারিদিকে হাততালি শুরু হয়ে সবাই চিৎকার করে বলতে থাকে আরো হবে। কিন্তু বাসায় এসে অনেক বকা খেতে হয়েছে। এর পর গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুন্নাকে নিয়ে যেত নৃত্য করার জন্য।

সেই ১০ বছর বয়স থেকে নৃত্য করা শুরু। ১৯৯৫ সালে ওস্তাদ বাবলা স্যারের কাছে প্রথম নৃত্য শিখা, তার হাত ধরে শিল্পকলায় ভর্তি হয় এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে মুন্সীগঞ্জ বাসীর মন জয় করে মুন্না হয়ে উঠে সবার পরিচিত মুখ। স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে নৃত্যের প্রতিযোগিতায় মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ নৃত্য শিল্পী হয়। ২০০০ সালে বুলবুল ললিত একাডেমীতে নৃত্যের ক্লাসে ভর্তি হয়। লিখন রায় স্যার এর কাছে সাধারন নৃত্য এবং কার্তিক হালদার স্যার উচ্চাংগ নৃত্যের প্রশিক্ষন নেয়।

নৃত্যে তাহার সহ শিল্পী ছিল- তানিন তানহা রহমান, বুবলি, চাঁদমনি, ময়না, মোমেনা, রুনা, মুক্তা, মুন্নী, সিথী, অর্চি, নিপা, সুমি আক্তার, সুভ্রা, দিপ্তী, শিমু, মিষ্টি, বর্ষা, মনিকা, ছোয়া, বৃষ্টি, নুপুর প্রমুখ। নৃত্যের পাশাপাশি নাটকে ও অভিনয় করে ১৯৯৫ সালে অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির একটি ওর্য়াকসপের মাধ্যমে এই দলে অর্ন্তভুক্ত হয় এবং অনেক নাটকে অভিনয় করে যেমন: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নীলা, সেই সমতটে এই জনপথে, ভন্ডামি, ইয়াসমিন ট্রাজেডী, এখন দুঃসময়, শাস্তি, বাংলার বাদশা, সহি বড় বাদশাহী কাব্য, সহ অংশখ্য নাটকে অভিনয় করে পেয়েছে মঞ্চকুড়ি, মঞ্চসেনা ও মঞ্চ মুকুল পদক। টেলিভিশনে অনেকগুলো নাটকে অভিনয় সুযোগ হয়েছে তার যেমন- ভাংগন, ছায়া নারী কায়া নারী, পল্লবের বিয়ে, হ্যাপি নিউ হিয়ার, রংবাহার।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, এটিএন বাংলা, একুশে টিভিতে নৃত্যের অনুষ্ঠান করেছে। বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলার সর্ব প্রথম নৃত্যের সংগঠন “সম্মিলিত নৃত্য শিল্পী পরিষদ” এই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক, অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সাধারন সম্পাদক হিসাবে দায়িত্বে আছে।

প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন রেসিডিনশিয়াল মডেল স্কুর এন্ড কলেজে নৃত্য প্রশিক্ষক হিসাবে ক্লাস নিচ্ছে। প্রথম আলো বন্ধুসভার মুন্সীগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে উপদেষ্ঠা, সচেতন নাগরিক কমিটি, সনাক মুন্সীগঞ্জ এর সম্মানিত সনাক সদস্য ও ইয়েস ও ইয়েসফ্রেন্ড গ্রæপের আহবায়কের দায়িত্বে আছেন তিনি এবং নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রয়েছেন তিনি। তাহার প্রিয় নৃত্যের সংগঠন সম্মিলিত নৃত্য শিল্পী পরিষদকে নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নৃত্যের অনুষ্ঠান করে বেশ সুনাম অর্জন করেন।

নৃত্য আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে, এটা আমার নেশা যতদিন সম্ভব হয় নৃত্য করে যাব। মুন্সীগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস,সি পাশ করে। হরগঙ্গা কলেজ থেকে এইচ.এস,সি ও বি,এ পাশ করেন। সরকারী তোলারাম মহাবিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স করেন। মুন্সীগঞ্জ ল কলেজ থেকে এল.এল.বি করেন। মুন্নার পুরো নাম মুহাম্মদ নুরুন্নবী (মুন্না), পিতামৃত-জসিম উদ্দিন শিকদার, মাতা- হোসনে আরা বেগম (শিক্ষিকা), ৩ভাই ১ বোন। মুন্সীগঞ্জের খালইষ্ট এলাকায় তাহার বাড়ি।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি