মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক :: শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন হয়রানি বন্ধ করা ও জাতীয় নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করার দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (জিটিইউসি)’র উদ্যোগে শুক্রবার গতকাল বিকেল সাড়ে ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এড. মন্টু ঘোষ, কেন্দ্রীয় নেতা দুলাল সাহা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দাস, শ্রমিক নেতা নূর ইসলাম আক্তার, প্যারাডাইজ কেবলস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রাসেল ও রাসেল গার্মেন্টসের নারী শ্রমিক মাছুমা বেগম প্রমূখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন করোনার দুঃসময়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কারখানায় উৎপাদন করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছে। মালিকদের প্রচুর মুনাফা করে দিয়েছে। প্রতিদানে মালিকরা শ্রমিকদের কোন সুযোগ-সুবিধা দেয়নি উল্টো ছাঁটাই-নির্যাতন ও হয়রানি করে তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে। দৈনিক কর্ম ঘণ্টার কোন সীমা নেই, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও শ্রমিকদের ওভারটাইম কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মালিকদের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে কোন শ্রমিক কথা বললেই তার চাকুরি থাকে না। চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও আইনি পাওনা দেওয়া হয় হচ্ছে না। মালিকদের এই বে-আইনি কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নিতেছে না। ফলে সারা দেশের শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম নিচ্ছে। মালিকদের অন্যায় ও অমানবিক আচরণ পরিহার করতে হবে। তা-না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে সকল অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুমের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকার রাসেল গার্মেন্টসের ৩৫ জন শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না। বিকেএমইএ’র দরজায় বারবার কড়া নাড়ার পরেও কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও বিভিন্ন কারখানায় চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও আইনগত পাওনা দেয়া হচ্ছে না। শ্রমিকরা পাওনা আদায়ের জন্য কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না। শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করে চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও আইনি পাওনা পরিশোধ করতে হবে নয়-তো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায় করা হবে।

তারা আরো বলেন বাজারে জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বাড়ে সব কিছুরই দাম বাড়ে কিন্তু বাড়ে না শুধু শ্রমিকের মজুরি। মজুরি বাড়াতে আন্দোলন করা লাগে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু-হু করে বাড়ছে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। জিনিসপত্রের চড়া দামের বাজারে শ্রমিকরা যে মজুরি পায় তা দিয়ে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরম সংকটে তাদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। সেই বিবেচনা থেকে বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে জাতীয় নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ঘোষণা করার জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি