মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন

কালিয়াকৈরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রী

গাজীপুর প্রতিনিধি :: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব এ্যাড. আ.ক.ম মোজাম্মেল হক (এমপি) বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। যেটা পৃথিবীর মধ্যে প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণায় আজকে কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে মাত্র সাড়ে ৫ একর জমিতে তাদের প্রকল্প শুরু করেছেন।

হাইটেক পার্ক কিন্তু বাংলাদেশে অনেক হবে। ১০০টির বেশি হবে। আমাদের ইচ্ছা আছে যে, পর্যায়ক্রমে হাইটেক পার্ক আমরা উপজেলায় উপজেলায় করবো। কিন্তু এসব হাইটেক পার্কের রাজধানী হবে কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি। সে আঙ্গিকে এ হাইটেক সিটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি (এমপি)।

এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফরজি) প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মনসুরুল আলম প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মামুনুল হক, কালিয়াকৈর থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুরাদ কবীর, সাধারন সম্পাদক রেজাউল করীম রাসেলসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবর্গ।

তিনি আরো বলেন, বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনার জন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন। তারই ফসল আজকে আমাদের হাইটেক পার্কে এই সেন্টার অব এক্রিলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হল। সরকারের পরিকল্পনা হাইটেক পার্কে ৫ লক্ষ লোক কাজ করবে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত ২ লক্ষ লোক যাতে এখানে কাজ করতে পারবে।

সেভাবে এখানে শিল্পায়িত হবে, বিল্ডিংগুলো গড়ে উঠবে। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, সারা পৃথিবীতে যে করোনা মহামারির কারণে এসব কাজগুলো হয়নি। বিদেশীরা যারা ইন্ডাষ্টিয়াল এ রকম ৬৬ টি কোম্পানি তারা জায়গা বরাদ্ধ নিয়েছেন। কিন্তু কাজ করতে পারে নাই। এ কারণে আজকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়নি। আশা করছি, এ সরকারের মেয়াদকালে আগামী ২ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের প্রায় ২ লক্ষ লোক এখানে কর্মসংস্থান হবে।

তাদের যে সমস্ত অবকাঠামো দরকার, সুযোগ সুবিধা দরকার সেগুলোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, সমুদ্র সীমা যেটা আমরা অজর্ন করেছি। আগে পৃথিবীতে কোনো সমুদ্র আইন ছিল না। কিছু বিধি বিধান ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আইনের খসড়া তৈরি হয় এবং সেই আইনের বলে তিনি জাতিসংঘে মামলা করে গিয়েছিলেন। তাঁর সুযোগ্য কন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনার সেই আইন লড়াই করে এই সমুদ্র সীমা অর্জন করেছেন।

এই বিপুল জলরাশি আমরা যখন পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারবো। আজ যেমন গার্মেন্টেস সেক্টর থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলার বছরের আমরা আয় করতে পারি, তেমনি সমুদ্র থেকেও আমাদেও উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র থেকেও আমরা কারখানার মতো আয় করতো পারবো।

অপর দিকে একই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি (এমপি) বলেছেন, গতকাল আমাদের মন্ত্রনালয়ে মিটিং হয়েছে, ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে ৩/৪টি পণ্যেও দাম, যেটা আমাদেও আমদানি নির্ভর। সেটা আন্তজাতিক বাজাওে দাম বাড়ার কারণে আমাদের দেশেও দাম বেড়েছে। আর পিয়াজের দাম যেটা সম্প্রতি বেড়েছে। ভারতের কোনো কোন জায়গায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়া এবং দূর্গা পূজার কারণে ট্রান্সপোর্ট সমস্যার হওয়ায় ওদেও ওখানেও দাম বেড়েছে।

তবে গতকাল আমাদের সাথে কথা বলার পর আজকে বাজার লক্ষ্য করেছে ১০ টাকা কমে গেছে। মনে করছি, আরো এক মাস পর্যন্ত চাপ থাকবে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, অন্য সোর্স থেকে পিয়াজ আনার জন্য। তবে শুষ্ক প্রত্যাহারের জন্য একটা আবেদন করা হয়েছে। সেটা পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেটা আমরা পাইনি।

তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই কালিয়াকৈরের মানুষ ভাগ্যবান। কারণ আমাদের এই ৪টি প্রজেক্টের অর্ধেকই আপনারা পেয়েছেন। আর সারা বাংলাদেশে রয়েছে ২টি। আপনারা শুনেছেন, সারা পৃথিবীর সাথে প্রতিযোগীতার জন্য আমাদের গুণগত মান, কোয়ালিটি, ডিজাইন এসব আন্তর্জাতিক মানের হওয়া দরকার। সেজন্য আমরা এ ৪টি প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, যে পাকিস্তানের সাথে লড়াই করে আমরা বাংলাদেশ পেলাম।

১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর যেদিন বিজয় হল, সেদিন পাকিস্তানের অর্থনীতি আমাদের চেয়ে ৭০ ভাগ ভাল। আজকের বাংলাদেশ ওই পাকিস্তানের চেয়ে ৪০ ভাগ ভাল। ঘুরে গেছে সমস্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তান থেকে আমরা প্রতিটা সুচকে অর্থনীতির সমস্ত সুচকে আমরা এগিয়ে গেছি। ৭/৮টা সুচকে আমরা ভারতের চেয়েও এগিয়ে আছি। এই যে বাংলাদেশ, এই বাংলাদেশটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। আপনাদেও অক্লান্ত পরিশ্রমে ও তাঁর নেতৃত্বে আমরা ঘুরে দাড়িয়েছি।

এরআগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুপুরে উপজেলা হলরুমে আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়। পরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটট প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি