নিউজ ডেস্ক :: নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি হারিয়ে বেকার মোহাম্মদ ইসমাইল দুই ছেলের চাকরির জন্য টাকা দিয়েছেন মীর মোজাফফর ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার ডলিকে। শুধু ছেলের জন্য নয়; মেয়ের জামাই, ভাগিনা ও ভাগ্নি জামাই, খালাত ভাই এবং খালাত বোনের জামাইয়ের চাকরির জন্যও টাকা দিয়েছেন। এক ইসমাইলই কেবল ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে ১৩৫ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মোজাফফর দম্পতির বিরুদ্ধে।
২০২০ সালের বিভিন্ন সময়ে টাকা গ্রহণ করেছেন। বিশ্বাস স্থাপনে দিয়েছেন নিজ ব্যাংক হিসাবের চেক; কিন্তু কাউকে চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালের অক্টোবরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রতারক মোজাফফর দম্পতির পরিচয় হয়। মোজাফফর চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার জালালাবাদ অক্সিজেন এলাকার মীর মোহাম্মদ সোয়াবের ছেলে। স্ত্রী ডলি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) খুলশি অফিসে কর্মরত। স্বামী-স্ত্রী এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত থাকলেও ভুক্তভোগীরা জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইসমাইল আমাদের সময়কে বলেন, বন্দরে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে মোজাফফর আমাকে বলে বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফরিদ তার বন্ধু। ২০১৬-১৭ সালে তার মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে চাকরি দিয়েছেন। আরও কয়েকজনকে দিতে পারবেন।
প্রথমে দুই জুনিয়র অডিটর ও দুই পরিবহন কর্মকর্তা পদের জন্য বায়োডাটাসহ ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। গ্যারান্টি হিসেবে মোজাফফর ব্যাংক হিসাবের চেক দেন। একইভাবে প্রকৌশলী, সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা, সিনিয়র হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী ও উচ্চমান পদের জন্য ৩১ জনের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নেন। জাহাঙ্গীর নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ জনকে চাকরির কথা বলে ২০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এভাবে বিভিন্নভাবে ১৩৫ জনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। পরে চাকরির কোনো খবর না থাকায় মোজাফফরের বিষয়ে আমরা খোঁজ নিতে থাকি; তখন তার প্রতারণা বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হই। এর পর আমরা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মীর মোজাফফর ও তার স্ত্রী ডলির মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের মোবাইলে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।