শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে জেলা কমিটি পুনর্গঠন

নিউজ ডেস্ক :: চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ রংপুর ও ফরিদপুর ছাড়া বাকি আট বিভাগের সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ সিদ্ধান্ত দেন। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সঙ্গে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, দলকে আরও গতিশীল করতে এ বৈঠক হয়েছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হয় এ বৈঠক।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি বৈঠকের শুরুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকরা নিজ নিজ বিভাগের সাংগঠনিক রিপোর্ট উত্থাপন করেন। সেখানে প্রতিটি জেলা ও মহানগরের ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা, উপজেলা এবং পৌর কমিটির পুনর্গঠন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোন জেলায় কবে সম্মেলন করা যাবে তার একটি সম্ভাব্য তারিখ সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাছে জানতে চান। চট্টগ্রামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম আমাদের সময়কে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দ্রুত সময়ের মধ্যে তৃণমূলের।

কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। বৈঠকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করার বিষয়ে মত দেন সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা। এজন্য তৃণমূলের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ করার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন তারা। নেতারা বলেন, তৃণমূলকে শক্তিশালী করে আন্দোলন করতে পারলে তা সফল হবেই। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে জেলায় জেলায় চলমান সমাবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানেও সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ কর্মসূচি সফল করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অঙ্গীকার করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা জানান, তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন মার্চের মধ্যে সব সাংগঠনিক জেলা কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে করার জন্য। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পুনর্গঠন কাজ শেষ হলেই যেন সম্মেলন করা হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কমিটি করতে হবে। ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের আন্দোলন ও পুনর্গঠন একসঙ্গে চলবে। আশা করি ঢাকা বিভাগে পুনর্গঠন কাজ মার্চের মধ্যে শেষ করা যাবে। সে অনুযায়ী আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে কথা দিয়েছি।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীতে নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বরিশাল মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণের বাকিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্যগুলোও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা জানান, অপেক্ষাকৃত সক্রিয়দের নিয়ে একটি জেলা বা মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ৩১ বা ৪১ সদস্যের করা হয়। দেখা যায় বিলুপ্ত কমিটির বেশ কিছু নেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যান। আবার নিয়মিত কমিটি না হওয়ার কারণে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পদহীন অবস্থায় রাজনীতি করতে হয়। এ কারণে একটি জট বেঁধে যায়। এ জট ছাড়া গিয়েই ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়।

জানতে চাইলে বরিশালের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, আমরা সব কিছু সমন্বয় করেই পুনর্গঠন কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করি, ফেব্রুয়ারির মধ্যে পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি দুই জেলার সম্মেলন করতে পারব। বাকিগুলো মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ভাইয়ের লোক নয়, দলের লোকদের কমিটিতে আনার কাজ করছি। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।

গত ১২ অক্টোবর দলের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বৈঠকের পর সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা জেলার নেতাদের নিয়ে নিজ নিজ বিভাগে বৈঠক করেন। এরপর ‘ওয়ার্কশিট’ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়।

বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, বৈঠকে সারাদেশের সাংগঠনিক কর্মকা- নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলা, থানা, উপজেলা, পৌরসহ সব পর্যায়ের কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব গঠনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এসব কমিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে করতে হবে। যাতে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতারা নেতৃত্ব পান।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি