মঙ্গলবার, ২২ Jun ২০২১, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আইসিইউ বুকিং দিয়ে রেখেছেন: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে কোনো চিকিৎসা নেই। হাসপাতালে শুধু করোনা নয়, অন্য রোগীরাও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। কিডনি, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারসহ জটিল রোগের চিকিৎসাও পাচ্ছে না মানুষ। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা হাসপাতালে আইসিইউ বুকিং করে রেখেছেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ভালো হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। অথচ এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য নেই। চিকিৎসা করতে যাওয়ার আগে করোনা টেস্ট করে আসতে বলা হয়। আর করোনা টেস্ট এখন সোনার হরিণের মতো।

শনিবার রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসভবনে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, করোনায় আক্রান্ত সাধারণ মানুষ কেন সর্বোত্তম চিকিৎসা সেবা পাবে না? একটি আইসিইউ, একটি ভেন্টিলেটর বা একটি সিলিন্ডার এখন সোনার হরিণ। সড়কে, যানবাহনে, অ্যাম্বুলেন্সে, মর্গে এখন শুধু লাশের সারি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সারাদেশে এলাকাভিত্তিক কঠোর লকডাউন ঘোষণাসহ ৭ দফা সুপারিশও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। এরমধ্যে রয়েছে- চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পর্যাপ্ত মানসম্মত পিপিই সরবারহ নিশ্চিতকরণ ও তাদের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা, জেলায় জেলায় করোনা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সেবা দ্রুত সম্প্রসারণ, অভাবগ্রস্থ পরিবারগুলোকে রেশন কার্ডের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, পোষাক শিল্প-কারখানার কর্মীসহ সাধারণ শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা, খাদ্য সামগ্রী সহায়তা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, সরকারি ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া এবং করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক সংখ্যা উপস্থাপন এবং তথ্য লুকোনোর নীতি পরিহার করা। এই সংকট মোকাবেলায় সব দল-শ্রেণী-পেশাকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা পরিস্থিতিকে অবহেলা না করে, উদাসীন না হয়ে দেশের সমস্ত মানুষকে বাঁচানোর জন্য সমস্ত শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক দল, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং যারা চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তাদের ঐক্যবদ্ধ মতামত নিয়ে একটি সমন্বিত প্রয়াস চালাতে হবে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বিশেষ বীমা ও বিশেষ ভাতা প্রদানের দাবিও জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব জানান, করোনাভাইরাস সংক্রামণে আক্রান্ত হয়ে এই পর্যন্ত বিএনপির ঢাকা মহানগরের উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসানসহ ৫৬ জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছে ১২১ জন নেতাকর্মী। এছাড়া করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সেলের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে ৫১ লক্ষ ৮১ হাজার ৩৬০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ পৌঁছানো হয়েছে। এতে মোট ২ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার ৪৪০ জন মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে করোনা পর্যবেক্ষক জাতীয় কমিটির আহবায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং কমিটির সদস্য দলের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনও অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি