শনিবার, ২৫ Jun ২০২২, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

দিনে দিনে বড় হচ্ছে ন্যাটো

নিউজ ডেস্ক :: দিনে দিনে বড় হচ্ছে ন্যাটো। সবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে ইউরোপ আগ্রাসন ঠেকাতে ১৯৪৯ সালে মাত্র ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত হয় নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অ্যালায়েন্স (ন্যাটো)।

সোমবার নতুন করে ফিনল্যান্ডের যোগ দেওয়ার ঘোষণায় এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩২। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন এদিন ন্যাটো সদস্যপদ পেতে ন্যাটোতে আবেদন করবেন বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

রাজধানী স্টকহোমের এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। আগের দিন রোববার ন্যাটোভুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিনই এ ঘোষণা দিল ফিনল্যান্ড। বিবিসি।

ইউরোপকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স এই সামরিক জোট গঠনে নেতৃত্ব দেয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধীরে ধীরে এর সদস্য দেশ বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ২০২০ সালে উত্তর মেসিডোনিয়া ন্যাটোতে যোগ দিলে এর সদস্য ৩০ এ পৌঁছায়। সম্প্রতি রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন এর সদস্য হওয়ার খুব নিকটে রয়েছে।

ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন দেশগুলো ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্স, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং পর্তুগাল। ফিনল্যান্ড এর ৩১তম এবং সুইডেন ৩২তম দেশ হিসেবে ন্যাটেতে যোগ দিতে যাচ্ছে। মূলত ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর থেকে দেশ দুটি ন্যাটোর ব্যাপারে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠে।

কালক্রমে যে দেশগুলো ন্যাটোতে যোগ দেয় : ১৯৫২ সালে প্রথম গ্রিস এবং তুরস্ক ন্যাটোর সম্প্রসারণভুক্ত হয়। ১৯৫৫ সালে যোগ দেয় জর্মানি। পালটা প্রতিক্রিয়ায় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপের সাতটি দেশ আট জাতির ওয়ারশ চুক্তি গঠন করে। দীর্ঘ সময় পর ১৯৪২ সালে ন্যাটোর ১৬তম সদস্য হয় স্পেন।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ওয়ারশ চুক্তি বিলুপ্ত হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ন্যাটের অংশীদারত্বে যোগদান করে। পরের বছর তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান করে। এর ফলে কার্যকরভাবে তারা নিরপেক্ষ নীতি বন্ধ করে কিন্তু সামরিক দিক থেকে নিরপেক্ষ থেকে যায়। ১৯৯৯ সালে সাবেক ওয়ারশ চুক্তিভুক্ত তিনটি দেশ চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ড ন্যাটোতে জোটবদ্ধ হয়।

২০০১ সালে ন্যাটো চুক্তি অনুচ্ছেদ ৫ এ বলা হয় ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে হামলা মানে সবার ওপর আক্রমণ। ২০০২ সালে নিরাপত্তা ইস্যুতে আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠায় ন্যাটো। ২০০৪ সালে ন্যাটো ব্যাপক আকারে তাদের সদস্য বাড়ায়।

এ সময় বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভানিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়াসহ মোট সাতটি দেশ ন্যাটোতে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০০৮ সালে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে আসার আমন্ত্রণ জানালে রাশিয়া বিরোধিতা করে। ২০০৯ সালে ক্রোয়েশিয়া এবং আলবেনিয়া ন্যাটের সদস্য হয়।

২০১১ সালে ন্যাটো লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন ঘোষণা দেয়। ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। ২০১৫ সালে ন্যাটো আফগানিস্তানে আইএসএএফ মিশন সমাপ্ত করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মন্টিনেগ্রো এবং ২০২০ সালে উত্তর মেসিডোনিয়া ন্যাটোতে জোটবদ্ধ হলে এর সদস্য পদ সংখ্যা ৩০ দাঁড়ায়।

ন্যাটো কী? : ন্যাটো-উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট বলা হয় ন্যাটোকে। এর সদস্যরা সশস্ত্র হামলায় শিকার হলে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসে। ১৯৪৯ সালে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি দেশ নিয়ে ন্যাটো গঠিত হয়।

ফ্রিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিলে বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১। ন্যাটোর মূল লক্ষ্য ছিল-রাশিয়ার ইউরোপের দিকে অগ্রসর ঠেকানো এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পাতন ঘটানো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পাতনের পর অনেক সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশ ন্যাটোতে যোগ দেয়।

কোন প্রক্রিয়ায় ফ্রিনল্যান্ড এবং সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে? ইউরোপের দুটি দেশই বহু বছর ধরে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আসছিল। ন্যাটোতে নতুন কোনো দেশ যোগদানের জন্য এর বর্তমান সদস্যভুক্ত সবকটি দেশের সমর্থন লাগবে। ন্যাটোতে সদস্যপদ পাওয়ার জন্য দেশ দুটিকে গণতান্ত্রিক এবং সংখ্যালগুদের সঙ্গে নায্য আচরণ করতে হবে। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। অবশ্যই জোটকে সামরিক সহায়তা দিতে হবে।

তাছাড়া ন্যাটোর সদস্যরা তাদের জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহারে সম্মতি থাকে। ফ্রিনল্যান্ড ইতোমধ্যে এই লক্ষ্য আর্জন করছে। সুইডেন বলছে তারা খুব শিগগিরই এই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

রাশিয়া কেন ন্যাটোর বিরোধিতা করে? : ন্যাটো ইউক্রেনকে ২০০৮ সালে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে প্রস্তাব দেয়। ২০১৪ সালে রশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করে নেওয়ার পর ইউক্রেন ন্যাটোর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠে।

কিন্তু রাশিয়ার বিরোধিতার জন্য তা পেরে উঠেছিল না। রাশিয়া বিশ্বাস করে ন্যাটো তাদের বিরোধী গ্রুপ। এবং তারা পূর্ব ইউরোপের দিকে তাদের সদস্য বাড়িয়ে রাশিয়ার উঠানে তাদের প্রতিরক্ষা বেষ্টনী সাজাতে চায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি