সোমবার, ২৭ Jun ২০২২, ১২:০৪ অপরাহ্ন

সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে নিরাপত্তা বাহিনী

নিউজ ডেস্ক :: পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘিরে যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা এড়াতে সক্ষমতার সবটুকু নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পদ্মা সেতু এলাকা এবং ঢাকা মহানগরীসহ পুরো দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এ নিয়ে কাজ করছে। ২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের দুদিন আগে থেকেই ঢাকা মহানগরীতে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মাথায় রেখে যে কোনো নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কাজ এড়াতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ ব্যক্তিরা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি করা হচ্ছে। জঙ্গি, নাশকতাকারী, তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও সব ধরনের অপরাধীদের ধরতে চলছে অভিযান। অনলাইনে গুজব ও উসকানি প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং করছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক ইউনিট। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু নির্মাণের পর তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই ভালো না লাগা কাজ করতে পারে। সেজন্য এই চক্রগুলো বহুল প্রত্যাশিত সেতু উদ্বোধনের দিনটিকে ঘিরে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে-এমন আশঙ্কাকে তারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। উদ্বোধনের সময় যখন কাছাকাছি, তখন বেশ কয়েকটি রসহ্যজনক অগ্নিকাণ্ড তাদের এই আশঙ্কাকে আরও গাঢ় করেছে। সে কারণেই নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামান্যতম ছাড় দিতে চায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেতুর আশপাশের সড়কগুলোতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

সেখানে থাকছে ওয়াচ টাওয়ার, কন্ট্রোল রুম ও ডগ স্কোয়াড। দুই পারে ‘পদ্মা সেতু উত্তর’ ও ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ’ নামে নতুন দুটি থানা চালু হচ্ছে। আজ বিকালে থানাগুলোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পদ্মা নদীতে ২৪ ঘণ্টা স্পিডবোট দিয়ে নৌপুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার টহল চলছে। সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সতর্ক থাকতে এবং সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ঘিরে সব প্রস্তুতি দৃশ্যমান নয়। তবে এটুকু বলছি, নিরাপত্তা নিশ্চিতে যা যা করণীয় তার সবই করা হচ্ছে। সেতুর নিরাপত্তায় দুটি নতুন থানা চালু হচ্ছে। সেখানে কোস্টগার্ডের একটি ক্যাম্প থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২৫ তারিখে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যাতে না করা যায় সেজন্য একটি প্রচেষ্টা রয়েছে। কিন্তু এতে কারা জড়িত-সেটি এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে পদ্মা সেতু যারা চায়নি তারাই এমনটি করতে পারে-আপাতত এ রকম ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কেবল পদ্মা সেতুই নয়, দেশের যে কোনো প্রান্তেই ‘কিছু একটা’ ঘটানো হতে পারে। সে কারণেই এত সতর্কতা। এজন্য মেগা প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের নিরাপত্তা নজরদারিতে শীর্ষে রয়েছে-হাইটেক পার্ক, ইনকিউভেটর, পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তলদেশের টানেল।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করা এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হতে পারে এমন আশঙ্কাকে সামনে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সংগঠন যাতে ঢাকা মহানগরীসহ দেশব্যাপী নাশকতা, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য পুলিশ সুপারদের তাদের আওতাধীন মোবাইল পার্টির মাধ্যমে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর সন্দেহজনক মেস, আবাসিক হোটেল, ছাত্রাবাস, পরিত্যক্ত কারখানা এবং অন্যান্য সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানে ১৪ জুন থেকে ২৫ জুন নিয়মিত তল্লাশি করতে বলা হয়েছে। প্রতিটি থানা এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আগমন ও অবস্থানের বিষয়ে নজরদারি করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে তল্লাশি পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি ‘ছক’ করে দেওয়া হয়েছে। ওই ছকে নির্ধারিত বিভাগ, তল্লাশির সংখ্যা, তল্লাশিকৃত হোটেল বা স্থানের নাম ও ঠিকানা, সেখানে আটক হলে তার সংখ্যা, আটককৃতদের নাম ও ঠিকানা, গৃহীত ব্যবস্থা এবং কিছু উদ্ধার হলে তা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত অভিযানে পাওয়া ফলাফল ছকের মাধ্যমে সকাল ১০টার মধ্যে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনারকে (ক্রাইম) পাঠাতে বলেছে।

এছাড়া ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ডিসিদের দেওয়া এক নির্দেশনায় বলেছেন, জঙ্গি, নাশকতাকারী, তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও সব ধরনের অপরাধীদের সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সুনির্দিষ্ট কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করে তল্লাশি পরিচালনা করতে হবে। সোশ্যাল, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় গুজব ও অপপ্রচার রোধে অনলাইন নজরদারির মাধ্যমে যে কোনো চক্রান্ত প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে র‌্যাবের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তারা পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা কর্মসূচিকে উদ্বোধনের দিন এবং তার পূর্ববর্তী করণীয়-এই দুই ভাগে ভাগ করে কাজ করছেন। পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় টিম পাঠিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কাজ করছেন তারা। এসব এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি পেট্রোলিং বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি সাড়াদানের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্বোধনী দিনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভিতে নজরদারি, ডগ স্কোয়াড মোতায়েনসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর বাইরে উদ্বোধনের দিন মানুষের চলাচলের বিষয়েও এসেছে বিশেষ নির্দেশনা। পুলিশের একাধিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক জনসাধারণ যানবাহনসহ ঢাকা মহানগরের ওপর দিয়ে চলাচল করবে। তাদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দুদিন আগে থেকেই অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে টোল আদায় দ্রুততম করতে হবে।

এজন্য টোল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রায় সবাই একযোগে নিজেদের গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার জন্য যাত্রা করবে। তখন রাজধানীর যানজট মোকাবিলায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগকে তৎপর থাকতে হবে। এছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আগে, অনুষ্ঠান চলাকালে এবং পরবর্তীকালে অংশকারীদের ফিরতি যাত্রার সময় যে কোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন যাতায়াতের জন্য রাস্তা যথাসম্ভব প্রস্তুত রাখতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি