বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ০২:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিহ্মোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় দেশে পরিবেশ বান্ধব কৃষি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আহবান বোপমা সভাপতির হাতীবান্ধায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার মূল আসামী শাহিন গ্রেফতার সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বরিশালে আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল খেলাপি বৃদ্ধির শীর্ষে ২০ ব্যাংক বিমানবন্দরে ভক্তদের উদ্দেশ্যে যা বললেন শাকিব খান বরিশাল শেবাচিমে অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তেলের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন: বাণিজ্যমন্ত্রী বামদের হরতালে বিএনপির সমর্থন বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রতিকারহীন সড়ক দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম কিছুতেই যেন টেনে ধরা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন হলো, এর কি কোনো প্রতিকার নেই? শনিবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মহিষবাথানে দুটি বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর মিরপুরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে কলেজছাত্রসহ দুজন এবং মাগুরা সদর, শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নেত্রকোনার পূর্বধলায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। প্রশ্ন হলো-প্রতিদিন যদি আমাদের এমন দুঃসংবাদের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে এত আন্দোলন, এত সুপারিশ-পরামর্শ ও নতুন প্রবর্তিত আইন কী কাজে লাগছে? বস্তুত জনবহুল এই দেশে যান চলাচলে শৃঙ্খলার অভাব এবং সড়ক ও পরিবহণব্যবস্থা যথেষ্ট উপযুক্ত না হওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে বেশি। মূলত অশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ত্রুটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশে ৮৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালক কর্তৃক বেপরোয়া গতিতে যান চালানো।

সড়কে দুর্ঘটনা হ্রাসে ইতঃপূর্বে পেশাদার চালকদের লাইসেন্স পেতে ও নবায়নের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা ছাড়াও তাদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১১টি সুপারিশ করা হলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পুলিশ কর্তৃক চার্জশিট দাখিল এবং দ্রুত ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির পথ সুগম করা হলে তা দুর্ঘটনা হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেভাবেই হোক, সড়ক-মহসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। সচেতন হতে হবে পথচারীদেরও। একই সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ চালক এবং সড়কে চলাচল উপযোগী ভালো মানের যানবাহন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের পাশাপাশি পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © ২০২০ বাঙলার জাগরণ
কারিগরি সহযোগীতায় :বাংলা থিমস| ক্রিয়েটিভ জোন আইটি