গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, আমরা প্রতিবেশী দেশ ভারতের আগ্রাসনের মধ্যে আছি। তারা সবসময়ই একটা আগ্রাসী শক্তি হিসেবে ছিল। কারণ হিসেবে তারা ব্যবহার করে 'ওরা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে'।
আমাদের জানা দরকার, রাষ্ট্রের কোন দয়া-মায়া থাকে না, তার থাকে কৌশল। ভারত তার কৌশলগত স্বার্থে আমাদের পাশে ছিলেন৷ ভারতের জনগণের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। কিন্তু তার কারণে বিজেপি বা আদানি কে কেন আমাদের সব দিয়ে দিতে হবে? হাসিনার সময়ে একটা চরম অবস্থা চালু হয়েছিল।
বুধবার ( ৪ ডিসেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবনে 'গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার : সম্ভাবনা ও সংকট' শিরোনামে মুক্তাঙ্গন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভারত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য তৈরি করতে চাচ্ছে উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র্যতা, বৈষম্য ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে৷ ভারতে বিপেজির বিরুদ্ধেই অনেক লড়াই হচ্ছে৷ আমাদের উচিত এইসব লোকসহ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের মধ্যে সংহতি তৈরি করা। যে সংহতি শুধু
ভারতের আধিপত্যই মোকাবিলা করবে না; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথও পরিষ্কার করবে। বৈচিত্র্যকে সম্মান ও বৈষম্যের বিরোধীতা করতে হবে। এটিই গণ-অভ্যুত্থানের দাবি ছিল।
সরকারের উচিত ভুল তথ্য সনাক্ত করে তা দেশের মানুষকে জানানো। এটা সরকাটের প্রথম কাজ হওয়া উচিৎ। সুন্দরবনের রামপাল সিদ্ধান্ত বাতিল করা উচিত। সিমান্ত হত্যা বন্ধ করা জরুরি, পানির সঠিক বন্টন হওয়া উচিত। জাতিগত বৈষম্য দূর করা উচিত।- যুক্ত করেন আনু মুহাম্মদ।
আলোচনা সভায় ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক ড. সুস্মিতা চক্রবর্তী বলেন, ভারতের আধিপত্যশীলতা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সংকট। তাদের এ ধরনের আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি ও আধিপত্যসূলব আচরণের খুবই নিন্দাজনক৷ ভারতীয় সরকারের মদদে শেখ হাসিনা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে৷ তবে ভারতের জনগণ আমাদের শত্রু না। গণতন্ত্রকামী মানুষ আমাদের পক্ষে আছেন। আমাদের হিন্দুরাও দেশের পক্ষে একাত্মতা পোষণ করছেন। ভারত শুধু আমাদের জন্য নয় এই দক্ষিণ অঞ্চলের জন্যই হুমকির।
এসময় ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম সারোয়ার তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি বিপ্লবের দেশ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকেই এদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে মানুষকে পরিচালিত করা হয়েছে। এদেশের কৃষক শ্রমিক আন্দোলনে যে আকাঙ্ক্ষার নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা আজও তাদের অধিকার পায়নি। আজ ভারতের সাথে আমাদের যে প্রতিযোগিতা তাতে জয়ী হতে হলে সকল বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করতে হবে৷
এর আগে 'ছাত্র প্রতিনিধিদের বোঝাপড়া' শিরোনামে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রথম অংশে একই বিষয়ে আরও বক্তব্য দেন শাখা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন আহ্বায়ক
জান্নাতুল নাঈম, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এম মাহমুদুল হাসান মিঠু, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সদস্য সচিব ওয়াজেদ শিশির অভি, ছাত্র গণ-মঞ্চ আহ্বায়ক নাসিম সরকার, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন আহ্বায়ক তারেক আশরাফ, ছাত্র অধিকার পরিষদ
আহ্বায়ক মেহেদী মারুফ, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল, রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠক জয়ন্ত গায়েন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি সেক্রেটারি আদিত্য রয় রিপন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি সভাপতি লাবু হক।
বিভি/এআই