উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি : মফছের আলী একটি চেতনার নাম, একটি আলোর নাম। তিনি ছিলেন একজন আলোকিত মানুষ। আলোর স্পর্শে অন্ধকারও আলোতে পরিণত হয়। ১১ জানুয়ারি শনিবার উজিরপুরের হস্তিশুন্ড এ. আর. তালুকতার কপ্লেক্স প্রাঙ্গনে মফছের আলীর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সামাজিক অবক্ষ্যয় ও মাদক প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক সেমিনার ও আলোকিত মানুষের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভা ও গুণিজন সম্মাননা পদক দেয়া হয়।
সকাল ১০টার সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের উজিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অশোক কুমার রায় চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন, সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পুলিশ ইন্সপেক্টর কবি সেলিম মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, নূরুল হুদা চৌধুরী আরব, আক্তার হোসেন, লোকমান হোসেন হাবিব, রনজিত দত্ত, নূর এ আলম প্রমুখ।
সেমিনারে উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। অপরাহ্ন ২.৪৫ মিনিটে আলোকিত মানুষের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভায় ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাস্টার সিরাজুল ইসলাম। আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টা প্রখ্যাত ইসলামিক চিন্তবিদ হযরত মাওলানা ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, অন্যতম উপদেষ্টা ফকির হৃদয়র সাঁই, কবি ও চিকিৎসক শেখ শহীদ হৃদ্য, আক্তার হোসেন, আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় মরণোত্তর গুণীজন সম্মাননা পদক দেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এম. এ. জলিল, ভাষা সৈনিক কমরেড সরদার ফজলুল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল বারেক হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান ডা. সুলতান আহমেদ মিয়া, মেম্বার আলী আহমদ হাওলাদার, মেম্বার ফরুক হোসেন হাওলাদার, ডাক্তার আলাউদ্দিন তালুকদারকে। এছাড়া সমাজকর্মে নিয়োজিত গুণীজন হিসেবে সম্মাননা পদক দেয়া হয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার, পরিমল ভট্টাচার্য, মাহবুব উদ্দিন মোল্লা বদর, আব্দুর রশিদ ও সাহেরা বেগমকে। সেমিনারে বিভিন্ন কলেজ-স্কুল ও সৎসঙ্গ যুবফোরামের ৬০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী ৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে পারিবারিক সামাজিক রাষ্টীয় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে এ প্রত্যাশায় সম্মাননা পদক দেয়া হয়। সম্মাননা পদক গ্রহণকারীদের পক্ষ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শাহজাহান হাওলাদার ও সাংবাদিক মিজান রহমান।
সেমিনার ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী সকলে সামাজিক অবক্ষয় ও মাদক প্রতিরোধে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম জুলফিকার বলেন, আমরা যা বলছি তা করছি না। যা করছি তা বলছি না। সমাজটা ঘুনে ধরে গেছে। কারো না কারো এগিয়ে আসা প্রয়োজন। এ জন্য চাই সৎ ও সহসী মানুষ। তবে ভালো কাজ করতে হলে বেশি মানুষের প্রয়োজন হয়না। কয়েকজন আলোকিত মানুষই একটি ভালো সমাজ উপহারে বিপ্লব ঘটাতে পারে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সৎসঙ্গ ফাউন্ডেশনের উজিরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আ. রহিম সরদার।