শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ থেকে : মাদকের আখড়ায় পরিণত হওয়ার অভিযোগের পর আবারও আলোচনায় গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার। এবার খোদ জেল সুপার শওকত মিয়ার বিরুদ্ধে উঠেছে বন্দিদের খাবার বিক্রির ভয়াবহ অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়— গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে কারাগারের খাদ্যগুদাম থেকে সাদা বস্তাভর্তি ৫০০ কেজি ডাল একটি ভ্যানে করে বাইরে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগে বলা হয়, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে জেল সুপার নিজেই খাদ্যগুদামে প্রবেশ করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ভ্যানগাড়িতে ডাল বোঝাই করে বাইরে পাঠিয়ে দেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেও গুদাম ত্যাগ করেন।
ভিডিও বার্তায় আরও অভিযোগ আনা হয়েছে— প্রতিদিন সন্ধ্যায় ‘টেবিল মানি’র নামে বন্দিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। এই অর্থ সংগ্রহ করেন সুপারের অর্ডারলি কারারক্ষী রূপক মিয়া। এছাড়া কারাগারের ক্যান্টিনে সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। বন্দিদের চড়া দামে জিনিসপত্র কিনতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে— ভারপ্রাপ্ত জেলার সুমি ঘোষ মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কারারক্ষীদের পোস্টিংয়ে জড়িত। সরকারি গাড়িও নাকি নিয়মিত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। এমনকি টাকা ভাগাভাগি নিয়ে জেল সুপার ও ভারপ্রাপ্ত জেলার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে জেল সুপার শওকত মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—
“কারাগারের ভেতরের কেউ ষড়যন্ত্র করে আমার বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ের ভিডিওর সঙ্গে ফুটেজ জুড়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে কারারক্ষীরা তাদের রেশনের চাল-ডাল বিক্রি করে থাকে, হয়তো ভিডিও ফুটেজ সেটির।" তিনি আরও দাবি করেন—“আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কারাগারে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছি।”
একদিকে মাদকের আখড়া, অন্যদিকে বন্দিদের খাবার পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ— সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এ বিষয়ে জেল সুপারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।