মোঃ আবদুল আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী
সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গরিব অসহায় ও এতিম ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কম্বল বিতরণ।
গতকাল সোমবার ০৫/০১/২৬ তারিখে সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা এবং চরক্লার্ক এলাকার অসহায়, দুঃস্থ জনসাধারণ ও উক্ত এলাকার ০২ টি মাদ্রাসার এতিম অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ হতে সরকারি সহায়তার কম্বল বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমার এর নেতৃত্বে কম্বল বিতরণে সার্বিক সহায়তা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব ছেনমং রাখাইন ও পিআইও জনাব মোশাররফ হোসেন সহ উপজেলার কর্মকর্তা বৃন্দ।
সুবর্ণচরে শীতের দাপড়ে জবুথবু জনপথ নিম্ম আয়ের মানুষ। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে প্রচুর দক্ষিণের এ উপজেলায়। শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে বাইরে কম আসতে দেখা গেছে। কমেছে নিম্ম আয়ের মানুষের দৈনিক আয়।
বিশেষ করে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে । বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু,বয়স্ক ও নিম্ম আয়ের মানুষ গুলো। হাড়কাঁপানো কনকনে এমন শীতে বাহিরে কাজে যেতে পারছেনা কর্মজীবী মানুষ। সুবর্ণচরে বিগত ১০/১২দিন ধরে শীতের তীব্রতায় অনেক শ্রমজীবীকে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে।
ঠিক এমন সময়ে সুবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেই ছুটে যাচ্ছেন দরিদ্রদের মাঝে কম্বল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকিব ওসমান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসনের এই কর্মকর্তা রাতের আঁধার, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা আর দুর্গম চর পেরিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দেখা গেছে কম্বল।গরিব, দুস্থ ও শীতকাতর মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে তিনি শুধু শীত নিবারণই নয়, মানুষের মনে হাসি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করেন।
প্রশাসনের এমন সহায়তায় স্বস্তি এনে দিয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় অবস্থানরত এতিম শিশুদের মাঝেও কম্বল পৌছে দেওয়া হয়, যাতে শীতের কষ্ট তাদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান জানান, এ শীতে গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে সরকারি সহায়তার কম্বল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে দিতে পারছি, এটা আমার জন্যও ভালো লাগার বিষয়। আমরা একেক দিন একেক এলাকায় গিয়ে কম্বল বিতরণ করছি, যাতে করে প্রকৃত অসহায় মানুষগুলোর শীত নিবারণ হয়, আমি সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি,এখন পর্যন্ত ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১০০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
আমাদের প্রথম ধাপে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই টিম ওয়ার্ক প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যেহেতু শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে আমরা বরাদ্দ অনুযায়ী বিতরণ কার্যক্রম সামনের দিকেও অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ।
এ সময় ইউএনও'র সাথে বিতরণ কার্যক্রমে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব মোশাররফ হোসেন,উপজেলা মৎস্য অফিসার মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুরুন নবী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের স্টাফ সহ প্রমুখ।