উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি :
রংপুরের বদরগঞ্জে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের হস্তিশুণ্ড গ্রামের মোঃ মোক্তার হোসেন হাওলাদারের মেয়ে রিয়া আক্তার বলে শনাক্ত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশি আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিয়ার মরদেহ তার বড় ভাই সবুজ হাওলাদার নিজ হস্তিশুণ্ড গ্রামে নিয়ে আসে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা গেছে, বস্তাবন্দি মরদেহটির পরিচয় না মিলায় প্রযুক্তির সাহায্যে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে রিয়া আক্তারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
গত ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাতপুর ইউনিয়নের বটপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে একটি আবাদী জমি থেকে জনৈক রিয়াজুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। উদ্ধারের পর দেখা যায় রিয়াকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বদরগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ শনাক্তে দেশের সকল থানায় জরুরি বেতার বার্তা প্রেরণ করেছিল। খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পুলিশের মাধ্যমে হস্তিশুণ্ড গ্রামে পৌঁছালে নিহতের পরিবার রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে ডিএনএ প্রোফাইলিং ও আইনি শনাক্তকরণ শেষে পুলিশি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি পরিবারের কাছে ১৯ জানুয়ারি হস্তান্তর করা হয়। ২০ জানুয়ারী রাত ৩ টা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রিয়া আক্তাকে দাফন করা হয় সন্তানকে এভাবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে মোক্তার হাওলাদারের পরিবার ও এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। হস্তিশুণ্ড গ্রামের সাধারণ মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।
নিহতের পরিবার জানিয়েছেন, "আমরা কল্পনাও করিনি আমাদের মেয়েকে এভাবে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফিরে পাব। রিয়া আক্তার মিরপুর-১৩ একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। পরে সেখানে চাকরি ছাড়ার পর গত ৪–৫ মাস ধরে গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। গত ১১ জানুয়ারি সর্বশেষ বাবা মায়ের সাথে তার মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছিল। এলাকাবাসি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে খুনিদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।"