আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে সিলেটের ১৯টি আসনে। দেশে ভোটারদের সঙ্গে সমন্বয় করতে প্রবাসীরা তৎপর প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব আমিরাত থেকে প্রবাসীরা নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করছেন। অনেকে অর্থ সহায়তা পাঠাচ্ছেন, কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে ভোটারদের কাছে প্রার্থী সমর্থন প্রকাশ করছেন।
বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার, সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ, সিলেট সদর এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ এলাকায় প্রবাসীরা সক্রিয়। এসব এলাকার রাজনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুনামগঞ্জ-৩:
এ আসনে এবার সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চারজন প্রবাসী—যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত। বাকি তিনজন স্বদেশী হলেও তাদের স্বজন প্রবাসে থাকায় তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সমর্থনে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী দেশে এসে ভোটারদের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক প্রবাসী দেশে ফিরে প্রতিদিন নির্বাচনী উৎসবে অংশ নিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, "জাতীয়তাবাদী পরিবারের নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে।"
প্রবাসীদের উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এম এ কাদির বলেন, "প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থ এলাকার উন্নয়ন ও মানবিক কাজে ব্যয় করেন। তাই তারা ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। এই নির্বাচনে প্রবাসীদের ভূমিকা অনেকটা ফ্যাক্টর।"
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টি ও অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনেও প্রবাসীরা দেশে এসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া, সিলেট-৬ ও সিলেট-০১ আসনেও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণা ততদিনে তীব্র রূপ ধারণ করছে। প্রবাসীরা দেশে এসে নির্বাচনী মাঠে সরাসরি কাজ করছে, এবং যারা দেশে আসতে পারছেন না তারা বিভিন্ন শহরে নির্বাচনী সভা পরিচালনা করছেন।