আব্দুর রহিম সরদার, উজিরপুর প্রতিনিধি : সন্ধ্যা ও কচাঁ নদীবেষ্টিত বরিশাল-২ সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার প্রায় অর্ধেক।
এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে মূল লড়াই হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস. সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টু কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি ও বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য এবং উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে তিনি এ এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে একজন পরিচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একাধিক স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, পাঠাগার ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যে গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজ, জল্লা আইডিয়াল কলেজ, সাতলা আইডিয়াল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ২০ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গুঠিয়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠ উল্লেখযোগ্য। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে ভোটারদের মধ্যে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানান, প্রতিদিনই উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পথসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চারবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তাঁর সমর্থকরা।
উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন খানসহ স্থানীয় নেতারা বলেন, অতীতের উন্নয়ন ও জনসেবার ধারাবাহিকতার কারণেই ভোটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে সান্টু আহম্মেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মান্নান। স্বাধীনতার পর এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে তিনি বরিশাল-২ আসনে নির্বাচন করছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। ফজরের নামাজের পর থেকেই গ্রামেগঞ্জে তাঁর সমর্থকরা ব্যাপক জনসংযোগ চালাচ্ছেন।
এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা নেছার উদ্দিন, বাংলাদেশ জাসদের মোটরগাড়ি প্রতীকের আবুল কালাম আজাদ বাদল, জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকের অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর বাইসাইকেল প্রতীকের আব্দুল হক, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির আম প্রতীকের সাহেব আলী।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪০টি এবং মোট বুথ ৯১২টি। এর মধ্যে উজিরপুর উপজেলায় কেন্দ্র ৮৪টি ও বুথ ৫৭৪টি।
উজিরপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও কোনো রাজনৈতিক সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগেরও একটি উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ের হাসি হাসবেন—তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে বাড়তি কৌতূহল।