আতিয়ার রহমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নড়াইল
নড়াইলের কালিয়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রলার থেকে নবগঙ্গা নদীতে পড়ে নিখোঁজের ৬ দিন পরে মনোজ পাইক নামে একজনের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া-মঙ্গলপুর সংলগ্ন নবগঙ্গা ও মধুমতী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।
বড়দিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. অহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর ঘাটে একটি চলন্ত ট্রলার থেকে তিনি নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন মনোজ পাইক। মৃত মনোজ পাইক খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কামারগাতী গ্রামের সুনীল পাইকের ছেলে।
পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া-মঙ্গলপুর সংলগ্ন নবগঙ্গা ও মধুমতী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে নৌ-পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনকে খবর দেন। পরে মনোজ পাইকের পরিবার এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে নৌ-পুলিশ লোহাগড়া থানায় মরদেহ হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে কালিয়া উপজেলার কালুখালীতে মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিতে ৩৫ জনের একটি দলের সঙ্গে এসেছিলেন মনোজ। অনুষ্ঠান শেষে রাতে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় (ট্রলার) করে দলটি খুলনা দিঘলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর শ্মশান এলাকায় পৌঁছালে মনোজ অসাবধানতাবশত ট্রলার থেকে নদীতে পড়ে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে খুলনায় ফিরে যান। নিখোঁজ মনোজের ভাই সবুজ পাইক জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ট্রলারে থাকা অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছেন বলে তার ধারণা। পরে স্বজনরা মুঠোফোনের মাধ্যমে কালিয়া থানা ও বড়দিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি অবহিত করেন।
লোহাগড়া থানার ওসি মো. আব্দুর রহমান বলেন, বড়দিয়া নৌ-পুলিশ লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মধুমতী নদী থেকে মনোজ পাইক নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করেন। নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।