
ঈদকে সামনে রেখে দেশের সকল কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস দ্রুত পরিশোধ এবং বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। তারা বলেন, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করতে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৪টায় সেগুনবাগিচাস্থ আ. ফ. ম. মাহবুবুল হক মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের এক কর্মী সভা সংগঠনের সভাপতি জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া, আলমগীর হোসেন দুলাল, সামসুল হুদা মোসাদ্দেক, আব্দুল আলী, তৈমুর খান অপু, আবদুল গফরান, সিরাজ মিয়া প্রমুখ। কর্মী সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দলিলুর রহমান দুলাল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, অনেক কারখানায় এখনও শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে এবং ঈদ বোনাস নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে করে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। তারা অবিলম্বে সব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য মালিকপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিভিন্ন শিল্প-কারখানা দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়। শ্রমিক নেতাদের মতে, কারখানা বন্ধ থাকার কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং তাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকরা দেশের শিল্প ও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিকদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
শ্রমিক নেতারা সতর্ক করে বলেন, ঈদের আগেই যদি বেতন–বোনাস পরিশোধ এবং বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।