শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় নিহত শহীদদের স্মরণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলা সংলগ্ন ‘জয়বাংলা পুকুর’ বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের সম্মানে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় এই সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবউল্লাহ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবউল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, উপজেলা কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক মোঃ ফিরোজ খান।
স্মরণ সভায় বক্তারা ২৫শে মার্চের কালরাতের ভয়াবহতা এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি চারণ করেন। বক্তারা বলেন, “লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখতে হবে।” তারা নতুন প্রজন্মের কাছে গণহত্যার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১২টায় গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ও দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে, যার মধ্যে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।