চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মোঃ এয়াছিন(৪০) নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে আটক করে দিনভর শারিরীক নির্যাতন চালিয়েছে একদল বখাটেরা। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করে। নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী ফেনী সদর এলাকার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে মোঃ এয়াছিন। তিনি দীর্ঘদিন চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফল ব্যবসা করে আসছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে থানা থেকে মাত্র ২’শ গজের মধ্যে একটি পরিত্যাক্ত স্কুল ভবনে। ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের তথ্যটি বৃহস্পতিবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবু মাহমুদ কায়সার হোসেন। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী এয়াছিন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষীপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমান(৩০) ও পূর্ব চান্দিশকরা গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার ছেলে সোহাগ প্রকাশ মুন্না (২৭)। মামলায় এয়াছিন উল্লেখ করেন, তিনি দির্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করে আসছেন। গ্রেফতারকৃত জিল্লুর রহমান ও সোহাগ প্রকাশ মুন্নাসহ তাদের অপর সহযোগীরা চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিভিন্ন পরিবহন থেকে জিবির নামে চাঁদা আদায় করতো। এই সুবাদে তাদের সাথে চেনাজানা ছিলো। গত বুধবার দুপুরে জিল্লুর রহমান আমার মুটোফোনে আমাকে বলে তাকে ২’শ টাকা ধার দিতে। আমি টাকা ধার দিতে রাজি হলে কৌশলে আমাকে ফোনে চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে মাত্র ২’শ গজ দূরে পারাবত স্কুলের সামনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করে। আমি সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলে জিল্লুর ও মুন্নাসহ আরো ৩ জনসহ ৫ জন মিলে আমাকে জোরপূর্বক স্কুলের একটি পরিত্যাক্ত রুমে নিয়ে আটক করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা আমার উপর শারিরীক নির্যাতন শুরু করে। দিনভর তারা আমাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, তাদের পিটুনিতে আমি এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা আমাকে রেখে চলে যায়। কিছুক্ষন পর আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি তারা পাশের রুমে অবস্থান করছে। আমি সুযোগ বুঝে বুধবার রাতে তাদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করে দৌড় দিলে তারা আবারও আমাকে স্কুল গেইটের সামনে ঝাপটে ধরে মারধর শুরু করে। এ সময়ে আমার আত্নচিৎকারে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে স্থানীয় জনতার সহয়তায় আমাকে উদ্ধার করে এবং জিল্লুর ও মুন্নাকে আটক করে।
এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাহিম (২৬), মনির(২৫) ও টুটুল(৩০) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহয়তায় পুলিশ আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কায়সার হোসেন বলেন, এয়াছিন নামে চৌদ্দগ্রাম বাজারের এক ফল ব্যবসায়ীকে টাকা ধারের বায়না ধরে ৫ ব্যক্তি তাকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ঔই ব্যবসায়ী টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে দিনভর নির্যাতন করছে স্থানীয় লোকজনরে মাধ্যমে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জন গ্রেফতার করে। পালিয়ে যাওয়া অপর ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।