নিজস্ব প্রতিবেদক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’সহ সকল জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে চুক্তিটি অবিলম্বে সংসদে এজেন্ডাভুক্ত করে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এর আগে জোটের আহ্বানে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (ART)’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। এটি দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য করা হতে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
তারা অভিযোগ করেন, চুক্তিটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে, যা দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
এ সময় তারা ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান সহিংসতা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে তা বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) নেতা কমরেড মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক কমরেড রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শহীদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি কমরেড আব্দুল আলী প্রমুখ।
সমাবেশ থেকে আগামী ১৬–২২ এপ্রিল দেশব্যাপী গণসংযোগ ও প্রচার সপ্তাহ এবং ২৭ এপ্রিল সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।