বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮০ কোটি আইফোন ব্যবহারকারীর জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে অ্যাপল। ‘অ্যাপল পে ফ্রড অ্যালার্ট’ নামে ভুয়া বার্তার মাধ্যমে একটি নতুন অনলাইন প্রতারণা চালানো হচ্ছে। যেখানে মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতারণা মূলত এসএমএস বা মেসেজের মাধ্যমে শুরু হয়। এতে ব্যবহারকারীদের জানানো হয় যে তাদের অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে। কোনো লেনদেন বাতিল হয়েছে বা সন্দেহজনক কেনাকাটা ধরা পড়েছে। বার্তার সঙ্গে একটি ফোন নম্বর বা লিংক দেওয়া থাকে এবং দ্রুত যোগাযোগ করতে বলা হয়।
বার্তায় দেওয়া নম্বরে ফোন করলে বা লিংকে ক্লিক করলে ব্যবহারকারী সরাসরি প্রতারকদের সঙ্গে যুক্ত হন। তারা নিজেদের কখনো অ্যাপলেন সাপোর্ট প্রতিনিধি, কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা এবং কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
এরপর ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে বলা হয়, তাদের অর্থ ঝুঁকিতে রয়েছে। এটা ‘নিরাপদ অ্যাকাউন্টে’ স্থানান্তর করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া হয়। একই সাথে টাকা তুলতে বা ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, এই ধরনের প্রতারণায় কিছু সাধারণ সতর্ক সংকেত থাকে। এর মধ্যে রয়েছে, অপ্রত্যাশিতভাবে অ্যাপল পে সংক্রান্ত বার্তা পাওয়া। বার্তায় দেওয়া নম্বরে কল করতে বলা, পাসওয়ার্ড বা নিরাপত্তা কোড চাওয়া এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা।
সংস্থাটি বলছে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে আগে সতর্ক হতে হবে। কারণ অ্যাপল কখনোই অপ্রত্যাশিত বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা নিরাপত্তা কোড চায় না।
একটি ঘটনায় দেখা গেছে, এক নারীকে ভুয়া বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় তার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। পরে ফোনে প্রতারক নিজেকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার ডলার তুলতে বাধ্য করে। তবে ব্যাংকের এক কর্মী বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে তাকে থামিয়ে দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রতারণা মূলত প্রযুক্তিগত হ্যাকিং নয়। এটি সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে মানুষের বিশ্বাস ও ভয়কে কাজে লাগিয়ে করা হয়। এতে ব্যবহারকারীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়। যাতে তারা যাচাই করার সুযোগ না পান।
এদিকে অ্যাপল সম্প্রতি জরুরি নিরাপত্তা আপডেটও প্রকাশ করেছে। এতে ‘ডার্কসোর্ড’ নামে একটি সাইবার হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। এই হামলা সাধারণত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিভাইসে প্রবেশ করে ক্ষতিকর সফটওয়্যার স্থাপন করতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্দেহজনক বার্তা পেলে কোনো লিংকে ক্লিক বা কল করা যাবে না। সরাসরি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করতে হবে। এছাড়া পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা কোড বা ব্যক্তিগত তথ্য কখনোই অপরিচিত কাউকে দেওয়া যাবে না।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা ও ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ এই ধরনের স্ক্যাম সাধারণত ভয় ও তাড়াহুড়ার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।