শেখ ফরিদ আহমেদ গোপালগঞ্জ :
জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের নতুন সূর্যকে স্বাগত জানালো গোপালগঞ্জ। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’—এই চিরন্তন আবাহনে আজ পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে উৎসবের জোয়ারে ভেসেছে গোটা শহর। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলায় মুখরিত ছিল গোপালগঞ্জের রাজপথ থেকে শুরু করে পৌর পার্কের আঙিনা।
দিবসের শুভলগ্নে সূর্যোদয়ের পরপরই সকাল ৬টায় পৌর পার্কের উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় বর্ষবরণের বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমবেত কণ্ঠে বৈশাখী গানে চারপাশ এক মায়াবী পরিবেশে রূপ নেয়। এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ সংখ্যক কলাকুশলী ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস, উদীচী জেলা সংসদ, ত্রিবেণী গণ সাংস্কৃতিক সংস্থা, সুর সন্ধান শিল্পী গোষ্ঠী, ঘুঙ্গুর নৃত্যালয়, সুর ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী, গোপালগঞ্জ থিয়েটার, অনিতা নৃত্য কলা, মধুমতি শিল্পী গোষ্ঠী,জলসাঘর সংগীত একাডেমী, বন্ধন শিল্পী গোষ্ঠী, গোপালগঞ্জ কালচারাল ক্যানভাস সহ অন্যান্য সংগঠনের শিল্পীরা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় মেধাভিত্তিক বৈশাখী প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর, জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারেক সুলতান এবং জেলা কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত। শাহনাজ পারভীন শিলু ও প্রতিমা হীরা তমার প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি পূর্ণতা পায়।
পুরস্কার বিতরণী শেষে অতিথিদের নেতৃত্বে বের করা হয় বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। রঙ-বেরঙের প্লাকার্ড, ফেস্টুন আর ঐতিহ্যবাহী লোকজ মোটিফ নিয়ে বের হওয়া এই শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। লাল-সাদার চিরায়ত সাজে সজ্জিত হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পুরো আয়োজনের সুশৃঙ্খল ও অনবদ্য ব্যবস্থাপনার নেপথ্যে ছিলেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ও প্রকৌশলী, জেলা কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাত। তার দক্ষ তদারকি এবং জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই নববর্ষ উদযাপন গোপালগঞ্জবাসীর কাছে এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়েছে। দিনব্যাপী উৎসবের রেশ ধরে সন্ধ্যায় একই মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে বাঙালীর এই চিরন্তন প্রাণের উৎসবের।