কেরামত আলী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের মৌচাক চেয়ারম্যান বাড়ী বিশ্বাস মঞ্জিল এলাকায় স্ত্রীর উপর অমানসিক নির্যাতনে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার মুক্তার দায়ের করা যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় স্বামী আবু তালহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে উপজেলার মৌচাক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে প্রেরন করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আবু তালহা(৪৬) গাইবান্দা সদর উপজেলার অনামিয়া লেন এলাকার আব্দুল সাত্তার খানের ছেলে। তিনি বর্তমানে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ী এলাকার বিশ্বাস মঞ্জিল বাড়ীর ভাড়াটিয়া।
নির্যাতিত সুমাইয়া আক্তার মুক্তা (১৯), কুমিল্লা জেলার, চৌদ্দগ্রাম থানার একতা বাজার এলাকার, জয়নাল আবেদীন এর মেয়ে। বর্তমানে কালিয়াকৈর উপজেলার -মৌচাক চেয়ারম্যানবাড়ী রোড (বিশ্বাস মঞ্জিল বাড়ীর ভাড়াটিয়া)।
মামলা সুত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় আড়াই বছর অগে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক দশ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্যে পারিবারিকভাবে আবু তালহা ও সুমাইয়া আক্তার মুক্তার বিবাহ হয়। বিবাহের সময় সুমাইয়ার বাবা স্বামীর বাড়ীতে মূল্যবান আসবাবপত্র সহ অন্যান্য জিনিসপত্র দেয়। বিবাহের পর বিবাদীর ব্যবসায়িক নগদ টাকার প্রয়োজনে স্ত্রীর পিতার নিকট হতে স্ত্রীকে হাওলাদ হিসাবে সারে তিনলাখ টাকা এনে দিতে বলে। মেয়ের বাবা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাই(স্বামীকে) সারে ৩লাখ টাকা প্রদান করে। তালহা উক্ত টাকা নিয়ে পরবর্তীতে মেয়ের বাবাকে টাকা ফেরত প্রদান করে নাই। সুমাইয়ার স্বামী ১ ভরি ওজনের স্বর্নালংকার বিক্রিয় করে দেয়। তা সত্বেও স্বামী স্ত্রী ভরন পোষন সঠিক ভাবে না করে তার ব্যবসায়িক আরো টাকা লাগবে মর্মে সুমাইয়াকে তার বাবার কাছ থেকে আরও দশ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। স্বামীর চাহিদামত যৌতুক না দেওয়ায় স্বামী যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইং ২৪.০৪.২৬ইং তারিখ রাত অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় স্ত্রী বর্তমান ঠিকানায় অবস্থান করাকালীন স্বামীর ছোট ভাই ইউসুফ খান পিতা আব্দুল সাত্তার খান, মাতা-ফিরোজা বেগমদ্বয় মিলে পূর্বের ন্যায় স্ত্রীর বাবার নিকট হতে দশ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে।
এতে সম্মত না হইলে সুমাইয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে স্বামী ও দেবর সুমাইয়ার চুলের মুঠি ধরে টানা হেচরা করে এলোপাথারী কিল ঘুষি লাথি মেরে তার মুখমন্ডল, বুক, পিঠ সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। স্বামী আবু তালহা স্ত্রীর বুকের উপরে উঠে দুই হাত দিয়ে স্ত্রীর গলা চেপে ধরে ও ইউসুফ খান পা দিয়ে সুমাউয়ার গলায় পারা দিয়ে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। সুমাইয়ার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে ঘটনার বিষয় নিয়া কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করিলে বিবাদী আমাকে খুন করিয়া লাশ গুম করা সহ বিবাদীর চাহিত যৌতুকের টাকা না দিলে বিবাদী আমাকে তালাক দিয়া অন্যত্র মোটা অংকের যৌতুক নিয়া বিবাহ করিবে মর্মে হুমকি প্রদান করে চলে যায়। পরবর্তীতে সুমাইয়া লোকজনদের সহায়তায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গাজীপুরে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে।
ওই ঘটনায় সুমাইয়া আক্তার মুক্তা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ মৌচাক এলাকা থেকে আবু তালহাকে গ্রেফতার করে।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) সানোয়ার হোসেন আবু তালহাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।