বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী মহানগরীতে অটোচুরি সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহার না করায় মোঃ মতিউর রহমান (৩৫) নামে এক সাংবাদিকের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের পাশাপাশি হাতের বুড়ো আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত মতিউর রহমান “সংবাদ চলমান” অনলাইন পত্রিকার প্রতিনিধি ও রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক। তিনি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার জামালপুর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মতিউর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলার একপর্যায়ে তার হাতের বুড়ো আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তাকে অপারেশন থিয়েটারে স্থানান্তর করেন। দীর্ঘ সময় অস্ত্রোপচারের পর তাকে অর্থো সার্জারি বিভাগের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আগে মতিউর রহমানের একটি অটোরিকশা চুরি হয়। এ ঘটনায় ইকবালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে মতিউর রহমানকে ভয়ভীতি, হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান এবং আহত সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ হিরু বলেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টামূলক হামলা। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা কখনো সফল হবে না।”
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ তাইরান আবাবিল হাসান সোহাগ বলেন, “মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।