বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটনের স্মৃতি নিয়ে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও সেনেগাল। ২০০২ সালে শিরোপাধারী ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল আফ্রিকার দলটি। ২৪ বছর পর সেই দুই দলের বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের দেখায় প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স, আর সেনেগাল চাইবে আবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে।
দিদিয়ে দেশমের দল এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে। সাম্প্রতিক ফর্ম তাদের দারুণ আশাবাদী করে তুলছে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে শেষ ৪ ম্যাচের ৩টিতেই জিতেছে তারা। যার মধ্যে কলম্বিয়া (৩-১) এবং ব্রাজিলের (২-১) বিরুদ্ধে জয় অন্যতম।
তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ের দিনে হ্যাটট্রিক করে দুর্দান্ত ফর্মে ফিরেছেন মাইকেল ওলিসে। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের গতি এবং ওলিসে-দেম্বেলেদের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে প্রস্তুত। তবে ফরাসিদের একমাত্র চিন্তার কারণ তাদের রক্ষণভাগ। শেষ ৫টি ম্যাচেই তারা অন্তত একটি করে গোল হজম করেছে।
পাপে থিয়াওয়ের অধীনে সেনেগাল দলে রয়েছে শারীরিক শক্তি ও কৌশলের দারুণ ভারসাম্য। যদিও তাদের সাম্প্রতিক প্রস্তুতি খুব একটা ভালো ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩-২ গোলে হার এবং সৌদি আরবের সাথে ০-০ ড্র, তবুও সাদিও মানে এবং চেলসি তারকা নিকোলাস জ্যাকসনের কাউন্টার-অ্যাটাকিং জুটি ফ্রান্সের দুর্বল রক্ষণে ফাটল ধরাতেই পারে। রক্ষণে কালিদু কুলিবালির নেতৃত্ব এমবাপের গতিকে আটকানোর মূল অস্ত্র হবে।
কাগজে-কলমে এবং শক্তির বিচারে ফ্রান্স অনেক এগিয়ে থাকলেও সেনেগালের শারীরিক ফুটবল ও কাউন্টার অ্যাটাক দেশমের দলকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। তবে এমবাপে, গ্রিজম্যান আর অলিসদের মতো ম্যাচ উইনারদের উপস্থিতির কারণে ফরাসিদেরই এবার প্রতিশোধ নেওয়ার পাল্লা ভারি।