মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: দৌলতপুর উপজেলার খলশী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে এবং চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার মাধ্যমে। অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উঠৈছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালামের নেতৃত্বে তার ভাগ্নে মো. রনি বিষ্ণপুর এলাকায় কালিগঙ্গা নদীতে ও মো. নান্নু রামচন্দ্রপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। ফলে নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে যাচ্ছে এবং তীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিন-রাত ড্রেজারের শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় নদীভাঙনের শঙ্কাও বাড়ছে। তারা বলেন, “বছরের পর বছর ধরে বালু উত্তোলন চলছে। নদীর পাড়ের অনেক জমি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি স্থানীয় প্রশাসনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্র ছায়ায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে নদী ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. রনি ও মো. নান্নুর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
তবে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বলেন, রাজনীতি করলে অনেকেই আত্মীয় পরিচয় দেয়। ওই ড্রেজার ব্যবসায়ীরা আমার কেউ নয়। অপরাধীরা কেউ কারো নয়।
এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, অবৈধ ড্রেজার পরিচালনা ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।