বাজার চলতি চকোলেট স্প্রেড নয়। চকোলেট বাটার বানিয়ে নিতে পারেন বাড়িতেই। পদ্ধতি সহজ। একটু সময় লাগতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য ওইটুকু পরিশ্রম করা যেতেই পারে।
প্রাতরাশে খাওয়ার নানা রকমের ‘স্প্রেড’ জনপ্রিয় হয়েছে ইদানীং। এককালে পাউরুটি বা রুটিতে মাখন বা দুধের সর থেকে তৈরি মালাই, টক-ঝাল-মিষ্টি চাটনি বা জ্যাম-জেলি মাখিয়ে খাওয়ার চল ছিল। কিন্তু এ যুগের প্রাতরাশের টেবিলে শোভা পায় বিদেশ থেকে আমদানি করা হ্যাজ়েলনাট-কোকো স্প্রেড, চকোলেট স্প্রেড, হামাস, গ্রিক ইয়োগার্ট স্প্রেডস, পিনাট বা আমন্ড বাটার, চিজ় স্প্রেড ইত্যাদি। ওই সমস্ত ‘ব্রেকফাস্ট স্প্রেড’-এর মধ্যে সবক’টিই সুস্বাদু হলেও সবক’টি স্বাস্থ্যকর এমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না। সেই স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মিলমিশ ঘটাতে পারে চকোলেট বাটার। এটি যেমন হার্টের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখবে, তেমনই ছোটদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিরও জোগান দেবে। এমনকি, শরীরে জরুরি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টেরও জোগান দেবে।
বাজার চলতি চকোলেট স্প্রেড নয়। এই চকোলেট বাটার বানিয়ে নিতে পারেন বাড়িতেই। পদ্ধতি সহজ। একটু সময় লাগতে পারে। তবে স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য ওইটুকু পরিশ্রম করা যেতেই পারে।
কী ভাবে বানাবেন?
চকোলেট বাটার তৈরির জন্য লাগবে ১০০ গ্রাম নুন ছাড়া মাখন (আনসল্টেড বাটার), ৪ টেবিল চামচ চিনি ছাড়া কোকো পাউডার, ১ চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স। মিষ্টি স্বাদ চাইলে চকোলেট বাটারের উপর প্রয়োজন মতো মধু বা চিনি ছড়িয়ে নিতে পারেন। অথবা মেশাতে পারেন ৩ টেবিল চামচ বেটে নেওয়া খেজুরের মিশ্রণ।
প্রণালী: ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকা নরম মাখন নিন। হ্যান্ড ব্লেন্ডারের সাহায্যে মাখনটি ভাল করে ফেটিয়ে নিন, যত ক্ষণ না একরকমের হালকা, ক্রিমের মতো টেক্সচার তৈরি হয়। এবার মাখনের মধ্যে খেজুর বাটা (যদি ব্যবহার করেন) এবং কোকো পাউডার অল্প অল্প করে ঢেলে আলতো হাতে মেশাতে থাকুন। মিশ্রণটি মসৃণ হয়ে এলে তাতে ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে দিন। চাইলে স্বাদ বৃদ্ধি করতে এক চিমটে নুনও দিতে পারেন। সব উপাদান একসঙ্গে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে চকোলেট বাটার। এটি একটি কাচের বয়ামে ভরে ফ্রিজে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারেন।
হার্টের রোগীদের জন্য বানালে
সে ক্ষেত্রে পদ্ধতি একটু বদলাবে। নুন ছাড়া মাখনের বদলে ব্যবহার করতে হবে আমন্ড বাটার। যা দোকান থেকে কিনতে না চাইলে বাড়িতেও বানিয়ে নেওয়া যায়।
তার জন্য খুব বেশি উপকরণের দরকার পড়বে না। ২ কাপ কাঁচা কাঠবাদাম ভাল ভাবে ধুয়ে জল শুকিয়ে শুকনো কড়াইয়ে ভাল ভাবে নেড়েচেড়ে ভেজে নিতে হবে। দেখবেন হাতের চাপে বাদাম আধাআধি ভেঙে যাচ্ছে কি না। যদি তা হয় তবে বুঝবেন ভাজা ভাল হয়েছে। এর পরে ওই কাঠবাদাম মিনিট দশেক মতো ঠান্ডা হতে দিয়ে তার পরে গ্রাইন্ডারে দিয়ে মিহি করে গুঁড়িয়ে নিন। গুঁড়ো হয়ে গেলে তা আবার ব্লেন্ড করুন। এর পরে ওর থেকে তেল বেরোতে শুরু করবে। আমন্ডের গুঁড়োয় হালকা চটচটে ভাব আসবে। কিছু ক্ষণ রেখে আবার ব্লেন্ড করতে হবে বেশ কিছু ক্ষণ ধরে। দেখবেন মিশ্রণটি মাখনের মতো নরম হয়ে গিয়েছে। এই কাঠবাদামের মাখন দিয়েই বাকি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে হবে।
বিষয়টি পরিশ্রম সাধ্য হলেও এ জিনিস খেলে স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। হার্টের রোগীরা তো বটেই ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্যও এই চকোলেট বাটার একই সঙ্গে স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মিলমিশ ঘটাবে।
শিশুদের খাওয়ানো কি নিরাপদ?
ছোটদের এটি খাওয়াতে কোনো বাধা নেই, বরং তারা এটি বেশ আনন্দেই খাবে। তবে চিনি ব্যবহার করলে প্রতিদিন না দিয়ে, সপ্তাহে ১-২ দিন পরিমিত পরিমাণে খাওয়ানোই ভাল। না হলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।