শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বর্না খানম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক স্বামী আল আমিন ব্যাপারীকে (৩৭) ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের কোতয়ালী উপজেলার রঘুনন্দপুর গ্রামের আল আমিনের সঙ্গে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ধানকোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের বর্না খানমের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আল আমিন তাঁর স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
গত ৪ জুলাই আল আমিন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বর্নাকে কথা বলার বাহানায় বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে যান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে কোনো একসময় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ পুকুরপাড়ে ফেলে রেখে আল আমিন পালিয়ে যান।
এ সময় ভেজা লুঙ্গি, গামছা ও গেঞ্জি হাতে আল আমিনকে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখে তাঁর ১৪ বছরের ছেলে চিৎকার শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা পুকুরপাড়ে গিয়ে বর্না খানমের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মিজানুর রহমান মুন্সী বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদপুর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
কাশিয়ানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলমান রয়েছে।