চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসন ও অবৈধভাবে দখলকৃত মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গা উদ্ধারে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাৎ হোসেন এর নেতৃত্বে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন ও মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন এর নেতৃত্বে থানা ও হাইওয়ে পুলিশের পৃথক দুটি টিম সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মহাসড়কের পাশের অবৈধভাবে দখল করে ফুটপাতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, কাঁচা বাজার ও ক্ষুদ্র দোকানপাট গুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক বর্জ্যগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশের নিত্য সৃষ্ট কৃত্রিম যানজট নিরসনে ফেনী-কুমিল্লার আঞ্চলিক বাস ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের জন্য বাজারের দক্ষিণ পাশে ইসলামী ব্যাংক সংলগ্ন স্থানে ও উত্তর পাশের হায়দার শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন স্থানে স্থায়ী দু’টি আলাদা বাস-বে স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। যানজট নিরসনকল্পে অভিযানের পূর্বে উল্লেখিত স্থানে অস্থায়ীভাবে বাস-বে স্থাপন ও বাস থামানোর বিষয়ে বাস-চালক ও হেলপার সহ বাজারের ব্যবসায়ী-পথচারীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।
অবিলম্বে উক্ত দু’টি স্থানে স্থায়ী বাস-বে স্থাপনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করে উপজেলা প্রশাসন। এর আগে চৌদ্দগ্রাম পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভা করে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারের যাবতীয় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে গত কয়েকদিন যাবৎ বিভিন্ন উপায়ে বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে বিষয়টি অবহিতকরণ সাপেক্ষে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ মাইকিং ও গণপ্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলদারদেরকে স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সোমবার বিকালে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, থানা ও হাইওয়ে থানা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। যত্রতত্র বাস থামানোর ফলে এবং মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘসময় ধরে যানটজ লেগে থাকতো। এতে চরম ভোগান্তিসহ নানান দুর্ঘটনার শিকার হতো বাজারে আসা সাধারণ মানুষ।
রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের পর মহাসড়কে নিরবিচ্ছিন্ন যান চলাচল দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা গেছে বাজারের ব্যবসায়ী সহ ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষকে। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে হকার সহ একশ্রেণির ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকান খুলে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। মহাসড়কের পাশের মার্কেট মালিকদের কেউ কেউ ফুটপাত দখল করে বাড়তি স্থাপনা নির্মাণ করে নিজেরা ব্যবসা পরিচালনা করা সহ অন্যত্র (ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিকট) তা ভাড়া দিয়ে সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে আসছেন।
একই কারণে মহাসড়কে যানজট লেগে থাকা সহ নানান দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছিল সাধারণ মানুষ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে অবৈধ দখলদারদেরকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বারবার সতর্ক করা সহ গনসচেতনতা তৈরিতে মাইকিং সহ বিশেষ প্রচার-প্রচারণা করা হয়। নির্ধারিত সময় শেষে আজ (সোমবার) বিকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মহাসড়কের পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। যানজট নিরসনে বাজারে দু’টি আলাদা অস্থায়ী বাস-বে স্থাপন করা হয়। শীঘ্রই সেখানে স্থায়ী বাস-বে স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যানজট নিরসন ও যত্রতত্র গাড়ী পার্কি বন্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।