শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ তুহিনের সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তাঁরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের সাজানো ও কাল্পনিক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। একই সাথে, শেখ তুহিনের আয়ের উৎস, অঢেল সম্পদের পরিমাণ ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে দুদকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জুবায়ের হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন সময় টেলিভিশনের জয়ন্ত শিরালী। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আমার দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম জুয়েল, সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাঙলার জাগরণ পত্রিকার শেখ ফরিদ আহমেদ, বৈশাখী টেলিভিশনের মোস্তফা জামান, মাই টিভির আরিফুল ইসলাম এবং গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশের পথ কখনো রুদ্ধ করা যাবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, উত্থাপিত দাবিগুলো অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হলে জেলার সামগ্রিক সাংবাদিক সমাজ আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।