স্টাফ রিপোর্টার: গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কার্যভিত্তিক ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীকে দ্রুত স্থায়ী নিয়োগ, পেনশন সুবিধার আওতায় আনা এবং স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন। আগামী ২ আগস্টের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ৩ আগস্ট সকাল ১১টায় পূর্ত ভবন চত্বরে এক ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচার পূর্ত ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিনিধি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. বদরুল আলম সবুজ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৬০২ জন কার্যভিত্তিক এবং ৮৯৩ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীর নিয়মিতকরণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা এখনো অনুমোদন হয়নি। হাইকোর্টের রায় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ইতিবাচক মতামত থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা।
বদরুল আলম সবুজ বলেন, বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও অনেক কর্মচারী স্থায়ী নিয়োগ ছাড়াই অবসরে যাচ্ছেন। অনেকে চাকরিরত অবস্থায় মারা গেছেন। নিয়মিতকরণ না হওয়ায় তারা পেনশনসহ সরকারি চাকরির বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে অনেক কর্মচারীর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তিনি বলেন, ড্রাইভার, মালি, কার্যসহকারী, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, পাম্পচালক, লিফটম্যান, গার্ড, সুইপার ও ঝাড়ুদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী সেটআপ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো গণপূর্ত অধিদপ্তরে পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, কার্যকরী সভাপতি, কাজী মো. নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, মো. বাকি বিল্লাহ সিদ্দিকী, মো. সালাহ উদ্দিন খোকা, মো. মজিবুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আলী মিয়া, মো. শাহাদত হোসেন (বাবু), সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম আউয়াল, মুহাম্মদ মনোয়ারুল ইসলাম (হিটলার), বিপ্লব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, সহকারী সাংগঠনিক রাহীন সমরুর মনন, মো. তাজুল ইসলাম।
আরও উপস্থিত ছিলেন মো. অহিদুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক মো. আরমান মোল্লা, সহকারী প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম সরকার, মো. আরাফাত (আল আমিন), সেন্টু সিকদার, শ্রম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুমন খান, সহকারী শ্রম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার ওয়াদুদ আল-আমিন, সহকারী সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আমির হোসেন, যৌথ দর কষাকষি বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মো. সাইদুল করিম, অর্থ সম্পাদক মো. আবুল কাশেস, সহকারী অর্থ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক (জিয়া) প্রমুখ।
সংগঠনের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—৬০২ জন কার্যভিত্তিক ও ৮৯৩ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীর স্থায়ী নিয়োগ; সব কর্মচারীর পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা; দৈনিকভিত্তিক ও ডাটা এন্ট্রি কর্মচারীদের রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করা; আউটসোর্সিং ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ; আউটসোর্সিং কর্মচারীদের নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন; পূর্বের ন্যায় কর্মচারীদের বার্ষিক পোশাক প্রদান; আবাসন ও কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি; অফিস ও আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সবুজায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও বলেন, আইন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের পক্ষে মতামত দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ৩ আগস্ট পূর্ত ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।