শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকারে গোপালগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ আলোচনা সভা। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে জেলা জুড়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কৌশল নির্ধারণই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আজ সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের 'স্বচ্ছতা সম্মেলন কক্ষে' গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। তিনি তাঁর বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে ধ্বংস করে না, বরং পুরো পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিঃস্ব করে ফেলে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ছাড়া দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একটি স্থায়ী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন কবির মাদকের চোরাচালান বন্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অপরাধ দমনের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সঠিক পথে রাখতে অভিভাবক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের উৎস চিহ্নিত করে এর সাথে জড়িত সিন্ডিকেট নির্মূল করার আশ্বাসও দেন তিনি। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নবী নেওয়াজ। তিনি গোপালগঞ্জ জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চলমান অভিযান, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং মাদক প্রতিরোধে বর্তমানের নানা চ্যালেঞ্জ বিশদভাবে তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকাসক্তির ভয়াবহ মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, মাদকের আগ্রাসনে সমাজের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতি ঘটছে এবং অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে এই করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে হলে কেবল আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; বরং স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সমাজ থেকে মাদকের নাম নিশানা মুছে ফেলতে জেলা প্রশাসনের সাথে সামাজিক সংগঠন, স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, সকল স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সর্বসাধারণকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। উক্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অন্যান্য কর্মকর্তা, জেলায় কর্মরত এনজিও প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ স্কাউটসের সম্মানিত প্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বহু সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে গোপালগঞ্জকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।