উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে ১৫ শত ফুট সড়কের প্রায় অর্ধশত পরিবারের চলাচলের একমাত্র কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে কাদা ও পানি জমে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেনজির বালীর বাড়ি থেকে কামরুল মাস্টারের বাড়ি হয়ে স্বপন ফকিরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় পঁচিশ শত ফুট সড়কটির ১৫ শত ফুট সড়কটি প্রায় ১২-১৩ বছর আগে সাতলা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়। এর পরে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে গিয়ে সড়কটি অনেকটা জমির সমতলে পরিণত হয়েছে।
এতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকেও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভ্যান, মোটর সাইকেলসহ ছোট যানবাহনও অনেক সময় বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। কাদা-পানির কারণে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ কামরুল ইসলাম (কামরুল মাস্টার) বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। তাদের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ধানসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকশ মানুষের চলাচলের কথা বিবেচনা করে এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম মোঃ ফজলুল হক বালী তাঁর মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তাটি তৈরির অনুমতি দিয়েছিলেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম আঃ খালেক আজাদের সার্বিক সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদের একটি বরাদ্দ থেকে সড়কটি তৈরি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টি ও কাদায় সড়কটির মাটি ধুয়ে গেছে। নিজস্ব উদ্যোগে কয়েকবার সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও জমি নিয়ে জটিলতার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাই, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে সড়কটি পাকাকরণের ব্যবস্থা করুক।
এ বিষয়ে জমির মালিক পরিবারের সদস্য শিবলী বালীর আপত্তির কথা উল্লেখ করে কামরুল মাষ্টার আরও জানান, সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে জমি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাকিম বালী, মোঃ ইউনুস শিকদার সহ আরও কয়েক জনে বলেন, ধান কাটার সময় কষ্ট করে ধান বাড়িতে আনতে হয়। বর্তমানে হাট-বাজারে যাতায়াত এবং ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসায় চরম সমস্যা হচ্ছে। কাদা-পানির কারণে ভ্যান, মোটরসাইকেল কোনো কিছুই সহজে বাড়ি পর্যন্ত আনা-নেওয়া করা যায় না। তাদের দাবি, সড়কটি শুধু কয়েকটি পরিবারের নয়, আশপাশের কয়েকশ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।