শেখ ফরিদ আহমেদ, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের মৌলভী পাড়ায় সীমানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই নিকটাত্মীয়ের পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে সকালে প্রাচীর ভাঙচুর এবং বিকেলে সালিশি বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মাথায় রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তিনজনকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জের পাইককান্দি ইউনিয়নের আদি বাসিন্দা এবং সম্পর্কে খালাতো ভাই—ঘোষগাতী গ্রামের আবু আহাদ বতু দাড়িঁয়া ও পাইককান্দি গ্রামের সাবেক সার্জেন্ট সামছুল হক শিকদার মৌলভী পাড়ায় পাশাপাশি জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে জমাজমি ও সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে হাতুড়ি, শাবল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবু আহাদ বতু দাড়িঁয়ার তৈরি করা বছর পাঁচেক আগের একটি সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সামছুল হক শিকদারের ছেলে পুলিশ সদস্য হামীম ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ সময় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষদের মধ্যে প্রথম দফায় হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
অভিযোগের বিষয়ে সামছুল হক শিকদারের ভাই টুটুল শিকদার দাবি করেন, আমিন ও গণ্যমান্য বিচারকদের উপস্থিতিতে মেপে দেখা গেছে বতু দাড়িঁয়া তাঁদের জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে নিজেদের জায়গা থেকেই প্রাচীর সরানো হয়েছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে বতু দাড়িঁয়া জানান, ১৯৯৬ সালে কেনা জমিতে নিয়ম মেনে তিনি প্রাচীর দিয়ে বসবাস করছিলেন। উল্টো খালাতো ভাইদের এই এলাকায় জায়গা খরিদ করতে তিনিই সহযোগিতা করেছিলেন। আজ হঠাৎ করে দলবল নিয়ে এসে তাঁর দীর্ঘদিনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
সকালের এই সংঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে পূর্বের সালিশগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক জরুরি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সর্বসম্মতিক্রমে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করা হয় এবং দুই পক্ষই তা মেনে নেয়।
তবে এই মীমাংসার আনুমানিক তিন ঘণ্টা পর মাগরিবের নামাজে যাওয়ার পথে পরিস্থিতি নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, মীমাংসা অমান্য করে আবু আহাদ বতু দাড়িঁয়ার ছেলে রাজীব, নাতি রিয়াদ এবং মেয়ে রিক্তা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সাবেক সার্জেন্ট সামছুল হক শিকদারের ছেলে সফটওয়্যার প্রকৌশলী আশিকুর রহমান মিনার, পুলিশ সদস্য আতিকুর রহমান এবং তাঁদের আত্মীয় ব্যবসায়ী তাজবীর শেখ রামদার কোপে মারাত্মকভাবে জখম হন।
স্বজনেরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ এলাকায় তৎপর রয়েছে এবং এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।