
বিশ্বজুড়ে নানা সংস্কৃতি ও সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যতিক্রমী আচার-অনুষ্ঠান ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে। সাধারণত পৃথিবীর বেশিরভাগ এলাকায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে বর বা কনে উভয়পক্ষের সম্মতি এবং মতামতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও রয়েছে, যা কিছু নির্দিষ্ট জনপদের মানুষের জীবনযাত্রাকে বেশ আলাদা করে তোলে। তেমনই এক অবাক করা বিয়ের রীতি চালু রয়েছে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কালাহারি মরুভূমি এলাকায় বসবাসকারী 'কুং' সম্প্রদায়ের মধ্যে।
বিশ্বের এই বিশেষ আদিবাসী সমাজে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি একেবারেই অন্যরকম ও চমকপ্রদ। আধুনিক সমাজের প্রচলিত নিয়মের মতো এখানে কনের মন জয় করা বা তার পরিবারের কাছ থেকে বিয়ের সরাসরি অনুমতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা বা চল নেই। বরং এই সমাজের পুরুষদের বিয়ের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিতে হয়, যা মূলত তাদের শক্তি ও সাহসিকতার পরীক্ষা হিসেবেও ধরা হয়।
কুং সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী, কোনো পুরুষ যখন কোনো নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেন, তখন তাকে অভিনব এক কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। পছন্দের নারীকে নিজের জীবনসঙ্গী বানানোর জন্য ওই পুরুষকে সবার অজান্তে কিংবা কিছুটা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কনেকে 'বন্দি' করে নিজের আস্তানায় নিয়ে আসতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বরকে বেশ ঝুঁকি নিতে হয় এবং সমাজের নিয়মের বেড়াজালে এটি একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত হয়ে থাকে।
তবে এই বন্দি করার প্রক্রিয়াটি আপাতদৃষ্টিতে জোরপূর্বক মনে হলেও এর পেছনের সামাজিক সংস্কৃতি বেশ সুশৃঙ্খল। কনেকে তুলে আনার পর তার পরিবার ও গোত্রের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একধরনের আপস বা দেনদরবার শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের মুরুব্বি ও সমাজের হস্তক্ষেপে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ও সংসার জীবন শুরু হয়।