মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা এবং সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যার ফলে গত কয়েক কার্যদিবস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে তেলের দাম। বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
সম্প্রতি এশিয়ার বাজারগুলোতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস প্রতি ব্যারেল ৯১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদর্শিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষভাগের পর জ্বালানি তেলের বাজার আবার সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এবং কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়া। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক পথটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটকে তীব্র করে তুলছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চলমান টানাপোড়েন নিরসনে যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জিত না হয়, তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এমনটি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।