স্টাফ রিপোর্টার : নদী ও জলসম্পদ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নদী, পানি, বন ও জলজ প্রতিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘নদী বাঁচাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও রিভার বাংলা। এতে আরও ৩৫টি সংগঠন সহযোগিতা করে।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও ধরা’র উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের গবেষণা প্রধান মো. ইকবাল ফারুক, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নুর আলম শেখ, সাংবাদিক ও লেখক আমীন আল রশীদ, সাংবাদিক-লেখক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন এবং নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন। স্বাগত বক্তব্য দেন মো. ইকবাল ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ।
ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নদী দেশের পাবলিক প্রপার্টি ও জাতীয় সম্পদ। নদীর প্রবাহ ও জলাধার রক্ষা ছাড়া মানুষ, জীববৈচিত্র্য ও সভ্যতা রক্ষা সম্ভব নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উত্তরণ প্রয়োজন হলেও তা পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে করতে হবে। একই সঙ্গে নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নদী দখলমুক্তকরণ এবং প্রবাহ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মো. ইকবাল ফারুক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নদীর স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নদী রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ফেজ-আউট পরিকল্পনা করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
নুর আলম শেখ বলেন, নদী, বন ও পানি রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা গেলে নদী ও জলজ প্রতিবেশের ওপর দূষণের চাপ কমবে এবং মানুষের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
আমীন আল রশীদ বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী পরিকল্পনা প্রয়োজন। তবে উন্নয়নের নামে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি গ্রহণযোগ্য নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে সংঘাত কমাতে হবে।
ড. কাজল রশীদ শাহীন বলেন, নদী রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। রাষ্ট্রকে শুধু ঘোষণা না দিয়ে নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নদীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শেখ রোকন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের এখনই সময়। ক্ষতিকর জ্বালানি ও অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে।
আলোচনা সভায় নদী ও জলজ প্রতিবেশের ওপর জীবাশ্ম জ্বালানির প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং নদী ও পানি সম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ যৌথ আয়োজনে ধরা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (CAPS), ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (YASD), রিভার বাংলা, রিভারাইন পিপল, কোস্ট ফাউন্ডেশন, বারসিক (BARCIK), ইকুইটি বিডি (EquityBD), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (MGB), বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (BSREA), গ্রিনওয়ে রিনিউএবল এনার্জি ইমপ্লিমেন্টেশন অর্গানাইজেশনসহ মোট ৩৭টি সংগঠন অংশ নেয়।