
দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষে বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে দশটি নতুন বিমান সংগ্রহ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমান বহরের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে সর্বমোট পঁচিশটি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেনা বোয়িং সিরিজের প্রথম উড়োজাহাজটি দুই হাজার একত্রিশ সালে দেশে এসে পৌঁছাবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার ইউরোপের বাজার থেকেও উড়োজাহাজ যুক্ত করার এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বিভিন্ন মডেলের উনিশটি উড়োজাহাজ সচল রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে নতুন করে চৌদ্দটি উড়োজাহাজ ক্রয়ের একটি বড় চুক্তি করেছিল জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি। ওই চুক্তির আওতায় প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ড্রিমলাইনার ও ম্যাক্স সিরিজের বিমান কেনা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ।
এয়ারবাস থেকে দশটি এবং বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে আরও এগারোটি বিমান যুক্ত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিমানের মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে চৌপঞ্চাশটিতে। দেশের বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহন সেবা আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে এই বড় বহরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে আকাশপথে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।