মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, কুলাউড়া : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় আশুগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুরের উদ্দেশ্যে পাঠানো ৮০০ বস্তা চালের ঘটনায় নতুন করে আরও ৮৬ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার এলাকার হেলাল স্টোর নামের একটি দোকান থেকে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
এর আগে কুলাউড়ার রসুলপুর বাজার এলাকার একটি গুদাম থেকে ৬৮৩ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছিল। নতুন করে ৮৬ বস্তা উদ্ধারের ফলে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৭৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার হয়েছে। এখনও ৩১ বস্তা চালের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাজার এলাকায় চালের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে শুক্রবার সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আশুগঞ্জ থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। এ সময় ব্রাহ্মণবাজারের হেলাল স্টোর থেকে ৮৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
এর আগে আশুগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুরের উদ্দেশ্যে ৮০০ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক ছেড়ে যায়। নির্ধারিত গন্তব্যে চাল না পৌঁছানো এবং ট্রাকের অবস্থান নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে ট্রাকটির সন্ধান পাওয়া যায় ফেঞ্চুগঞ্জে। পরে কুলাউড়ার রসুলপুর বাজারের একটি গুদাম থেকে ৬৮৩ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
এসআই নাজমুল হোসেন বলেন, ৮০০ বস্তা চালের মধ্যে প্রথম দফায় ৬৮৩ বস্তা উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে আরও ৮৬ বস্তা চালের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকি চাল উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, আশুগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে চাল উদ্ধারে কুলাউড়া থানা পুলিশ সহযোগিতা করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ব্রাহ্মণবাজারের হেলাল স্টোর থেকে ৮৬ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া চালের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। বাকি চালের সন্ধান ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে আশুগঞ্জ থানায় মামলা নং-২৭(৯), ২০০৬ ইং, দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮১ ও ৪৪০ ধারায় মামলা দায়েরের কথা জানানো হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে কুলাউড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রথম দফায় ৬৮৩ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়।
এখন পর্যন্ত ৮০০ বস্তার মধ্যে ৭৬৯ বস্তা চাল উদ্ধার হওয়ায় নিখোঁজ রয়েছে ৩১ বস্তা। এসব চাল কোথায় রয়েছে এবং কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছে—তা জানতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।