
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় মাদকের তথ্য দেওয়ার জেরে এক গ্রাম পুলিশকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বড় ধরনের বিপত্তিতে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান চলাকালে পুলিশের হাত থেকে এক আসামিকে বলপূর্বক ছিনিয়ে নেন স্থানীয় লোকজন। কেবল তাই নয়, এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলে অভিযানকারী পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ সদস্যদের উদ্ধার করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩ অক্টোবর রাতে, যখন খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখকে হাজরাকাটি বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে বেদম মারধর করা হয়। স্থানীয় মাদক কারবারে বাধা দেওয়া এবং প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার সন্দেহ থেকেই মূলত এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল। হামলাকারী বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হযরত সরদারসহ বেশ কয়েকজন মিলে তাঁকে লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং সুস্থ হওয়ার পর ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি রাতে তালা থানার পুলিশ হাজরাকাটি গ্রামে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। পুলিশি অভিযানে হযরত নামের এক অভিযুক্তকে আটকও করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁর সহযোগীরা চড়াও হয়ে পুলিশকে বাধা দেয় এবং ধস্তাধস্তি করে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের একটি ছোট দল অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের মুক্ত করেন।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি পৃথক মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে ফারুক বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস ও রাশেদ খাঁ নামের তিন ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং জিম্মি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।