
জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে রূপপুরে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের গহিনে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়েছে। এর আগে ১৬টি ইউরেনিয়াম জ্বালানি দণ্ড বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সফলভাবে বসানো হয় এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই স্পর্শকাতর ধাপের কাজ শুরু করা হয়।
নিউক্লিয়ার ফিশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট নিউক্লিয়াস, কয়েকটি নিউট্রন এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই বিক্রিয়া একবার শুরু হলে তা অবিরাম চালিয়ে যেতে হয়, যাকে চেইন বিক্রিয়া বলা হয়। ফিশনের প্রতিটি ধাপে উৎপাদিত নিউট্রনগুলোর মধ্যে গড়ে একটি যদি পরবর্তী ফিশনে অংশ নেয়, তবে তাকে ক্রিটিক্যালিটি বলে। এই অবস্থায় চেইন বিক্রিয়া সুষম গতিতে চলতে থাকে এবং রিঅ্যাক্টরের নিউট্রনের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হয়। কাজ শুরুর আগে রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপমাত্রা ও চাপে নিয়ে আসা হয় এবং প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সার্কিটের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এরপর কন্ট্রোল রড এবং বোরন দ্রবণের মাধ্যমে নিউট্রন শোষণ করে চেইন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বোরনের ঘনমাত্রা এবং কন্ট্রোল রডের অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে অপারেটররা খুব সূক্ষ্মভাবে রিঅ্যাক্টর স্টার্ট-আপের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কন্ট্রোল রডগুলো খুব ধীরগতিতে এবং ছোট ছোট ধাপে ওপরে ওঠানো হয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে স্বয়ংক্রিয় প্রটেকশন সিস্টেম নিজে থেকেই কন্ট্রোল রডগুলো কোরের গভীরে ফেলে দিতে সক্ষম। এই নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রক্রiyar মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে।