
রাজনীতি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার জেরে সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীয়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন যে, তার এই পদত্যাগের পেছনে সরকারের কর্মকাণ্ড বা দলের সম্মান যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সেই সদিচ্ছাই কাজ করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে এই বিএনপি নেতা বলেন, তিনি দেশ থেকে মাদক নির্মূলের যে মহৎ উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন, তা যেন কোনোভাবেই থমকে না যায় এবং সেই কার্যক্রম যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সদ্য সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি মূলত একটি চিহ্নিত মাদক বিস্তার এলাকা থেকে অবৈধ কর্মকাণ্ড উচ্ছেদ করতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং কোনো ধরনের জমি দখল বা চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে যাননি। স্থানীয় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং ভয়ের পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি সে সময় অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই তা হাতে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে তিনি সেদিন কোনো ভুল কাজ করেননি বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি।
এ সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কিছু প্রশ্ন তোলেন ইশরাক হোসেন। তার দাবি, সম্প্রতি একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে অনেক অতিরঞ্জিত ও কাল্পনিক তথ্য প্রচার করা হয়েছে যার মাধ্যমে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সুনির্দিষ্ট চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর ফলে মূল মাদকবিরোধী অভিযানের মূল লক্ষ্য থেকে মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর আগে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে পাঠান এবং পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।