
অর্থনীতি ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের সাশ্রয় এবং কম খরচের কারণে এলইডি বাল্বের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কম দামের লোভ দেখিয়ে বাজারে মানহীন ও ত্রুটিপূর্ণ বাল্ব ছড়িয়ে দিচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতারা বাহ্যিক চাকচিক্য ও সস্তা দাম দেখে এসব পণ্য ক্রয় করলেও পরবর্তীতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব নিম্নমানের বাল্বে সঠিক মাত্রার আলো পাওয়া যায় না এবং এগুলো খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানহীন এসব আলোকযন্ত্রে ব্যবহার করা হয় অত্যন্ত নিম্নমানের সার্কিট ও কাঁচামাল। এর ফলে প্রায়শই শর্টসার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া এই ধরনের বাল্ব থেকে যে তীব্র ও ক্ষতিকর আলো নির্গত হয়, তা মানবদেহের চোখ ও ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই আলোর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সস্তা বাল্বের গায়ে কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন বা মান সনদ থাকে না। নামসর্বস্ব বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারজাত করা এসব পণ্যের উৎপাদক বা আমদানিকারকের সঠিক কোনো ঠিকানাও পাওয়া যায় না। অথচ একটু সচেতন হলেই ক্রেতারা এই প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে পারেন এবং দীর্ঘস্থায়ী আলোর নিশ্চয়তা অর্জন করতে পারেন।
একটি ভালো মানের এলইডি বাল্ব ক্রয়ের সময় অবশ্যই তার আলোর কার্যকারিতা বা লুমেন রেটিং, স্থায়িত্ব এবং সরকারি মান সনদ যাচাই করে নেওয়া উচিত। শুধুমাত্র কম দামের কথা বিবেচনা না করে পণ্যের ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি কার্ড দেখে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে মানহীন পণ্যের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।