
জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি ব্যস্ততা ও সফরের প্রস্তুতির কারণে নির্ধারিত দিনে বৈঠকটি আর করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই স্থগিতাদেশ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই বৈঠক স্থগিত হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আটকে যাওয়া এই ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছিল। একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন অনুমোদন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে এসব উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকারিভাবে একনেকের এই সভা স্থগিত করার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করা না হলেও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে একে 'অনিবার্য কারণ' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল ও নীতিনির্ধারক কর্মকর্তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসনের জাপান সফরকে ঘিরেই মূলত গত রাতে বৈঠকটি না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই অর্থনৈতিক ফোরামের সভা স্থগিত হওয়ায় নতুন প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ এখন পরবর্তী বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবেই একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এসব বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের আমলে এই প্রথম কোনো বড় কারণে একনেক সভা স্থগিত হলো, যা পরবর্তীতে নতুন তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে আবারও অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।